বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

এনআরসি নয়, মোদির পর এবার শাহ

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: ঠিক কী বলা যায় একে! ডিগবাজি! তাও আবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর মতো এক দৌর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার! যাঁর প্রতাপে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খায়।

দেশের বহু প্রান্তে তো বলেইছেন, কলকাতাতে এসেও সিংহগর্জন করে বলেছিলেন, দেশজুড়ে এনআরসি হবে। অনুপ্রবেশকারীদের একে একে ধরে দেশ থেকে বিতাড়ন করবেন। ২০২৪ সালের আগে দেশজুড়ে এনআরসি হবে। শাহর কথায়, ‘ঘুসপেটিয়াকো চুন চুন করকে নিকলেঙ্গে।’ সেই শাহই মঙ্গলবার এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত নরম সুরে, শান্ত গলায় জানালেন, দেশজুড়ে এনআরসি চালু করার কোনও কথাই হয়নি। মন্ত্রিসভাতেও এই নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকী পার্লামেন্টেও এই নিয়ে কোনও কথাই হয়নি। সুর নরম করলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রসঙ্গেও। যা শুনে অনেকেরই হয়তো তখন ভিমড়ি খাওয়ার জোগাড়। ক’দিন আগেই দিল্লির রামলীলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ঠিক একই কথা বলেছিলেন। এ দিন শাহর গলায় হুবহু প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেল। প্রধানমন্ত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে তিনিও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিরোধী আন্দোলনের সব দায় বিরোধীদের ঘাড়েই চাপালেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শাহর মতো তাবড় নেতা এত তাড়াতাড়ি কেন ভোলবদল করলেন? নিন্দুকরা অবশ্য বলছেন, ঝাড়খণ্ডের মতো প্রায় ৬৮ শতাংশ হিন্দু অধ্যুষিত রাজ্যে এভাবে ভরাডুবি হবে বিজেপি তা স্বপ্নেও ভাবেনি। আর সেই ধাক্কা থেকেই সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছেন শাহ। এ দিন ঠিক কী বলেছেন শাহ? শাহর এ দিনের মন্তব্যে হুমকি নয়, প্রতি পদে পদে ছিল আশ্বাসের সুর। জানালেন, এনপিআর ও এনআরসি এক নয়। দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। এনপিআর হচ্ছে জনগণনা সংক্রান্ত। এর সঙ্গে এনআরসি-র কোনও সম্পর্ক নেই। এনপিআরকে এনআরসি-র প্রথম ধাপ বলে যে দাবি করা হচ্ছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে শাহ বলেন, বিরোধীরা মানুষকে এইসব বলে বিভ্রান্ত করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, কোথাও ডিটেনশন ক্যাম্প নেই। এই একটি জায়গাতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বক্তব্যের কিছুটা ফারাক শাহর। শাহ বলেন, ডিটেনশন ক্যাম্প করা হচ্ছে শুধুমাত্র বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য। দেশে কোনও বিদেশি বেআইনি প্রবেশের দায়ে ধরা পড়লে তাকে তো আর জেলে রাখা যায় না। তাদের জন্যই এই ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি হচ্ছে। এটা একটা স্বাভাবিক চলমান প্রক্রিয়া। যা আগে থেকেই চলে আসছে। কিন্তু এখনও কোনও ডিটেনশন ক্যাম্পই চালু হয়নি। এনআরসি করে মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে সেই প্রসঙ্গে শাহ বলেন, এটা বিরোধীদের অপপ্রচার। সংখ্যালঘুদের ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। কোনও ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় ফেলা হবে না। ভারতীয় নাগরিকদের এই নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শুধুমাত্র বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের জন্যই ডিটেনশন ক্যাম্প। রাজ্যে এনআরসি–সিএএ কার্যকরী হবে না বলে প্রথম ঘোষণা করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, এনপিআরের কাজও আপাতত স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেছিলেন। একই কথা বলেছিল কেরলের পিনরাই বিজয়ন সরকারও। যা নিয়ে শাহ বলেন, এনপিআর নিয়ে তিনি বাংলা ও কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছেন, এনপিআর নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য। বাংলায় এনআরসি হবেই বলে শাহ এর আগে যেভাবে রণংদেহী ভাবমূর্তি নিয়েছিলেন, এ দিন তার লেশমাত্র ছিল না তাঁর গলায়। সিএএ-র বিরুদ্ধে দেশজুড়ে হিংসা নিয়ে শাহর জবাব, বিরোধীরাই এই ধরনের হিংসায় মদদ দিচ্ছে। তবে শাহ এ দিন এনপিআরের সঙ্গে এনআরসি-র কোনও সম্পর্ক নেই বলে অভয় দিলেও বিরোধীরা তা মানতে নারাজ। সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, সংসদেই কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছিল, এনপিআর হচ্ছে দেশজুড়ে এনআরসি করার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এমনকী চলতি বছরের ২৩ জুলাই সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজুর একটি বিবৃতিও তুলে ধরেছে বিরোধীরা। সেখানে রিজিজুকেও একই কথা বলতে শোনা গিয়েছিল। সংসদে রিজিজু বলেছিলেন, সরকার এনপিআর কার্যকরী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা দেশজুড়ে এনআরসি চালু করার আগে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only