বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

নাবালিকার বিয়ের তোড়জোড় রুখলেন মহকুমা শাসক



দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট: নাবালিকার বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। খবর পেয়ে বিয়ের সেই প্রস্তুতি ভেস্তে দিলেন রামপুরহাট মহকুমা শাসক। এই ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পরেন বিধবা মা। তবে এলাকার কাউন্সিলর আশ্বাস দেন মেয়ের বিয়ের বয়স হলে তারাই সহযোগিতা করে বিয়ের ব্যবস্থা করবেন।

রামপুরহাট পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাগাড়পাড়া। ওই পাড়ার এক নাবালিকা নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বছরসাতেক আগে পথ দুর্ঘটনায় বাবা মারা গিয়েছেন। দুই ভাই বনের মধ্যে নাবালিকা বড়। বিধবা মা পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান। তাই মেয়ের বিয়ে দিয়ে কন্যাদায় গ্রস্থ হতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই মতো নলহাটিতে ছেলের বাড়ির সঙ্গে দেখাশোনা কথা বার্তা চলছিল।

 খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বাড়িতে যান মহকুমা শাসক শ্বেতা আগরওয়াল। সঙ্গে ছিল রামপুরহাট থানার পুলিশ। তারা বোঝান কন্যাশ্রী নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ১৮ বছর বয়স হলে সরকার তো বিয়ের জন্য রুপশ্রী প্রকল্পে ২৫ হাজার টাকা দেবে। আর যদি কথা না শোনেন তাহলে মেয়েকে হোমে পাঠিয়ে পড়াশোনা করানো হবে। মহকুমা শাসকের কথা শুনে বিয়ে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। 

নাবালিকার মা বলেন, “স্বামী নেই। পরের বাড়িতে কাজ করে পেট চালায়। তাই মেয়ের বিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মহকুমা শাসক এসে বলে গেলেন ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া যাবে না। তাই ঠিক করেছি ১৮ বছর বয়স না হলে বিয়ে দেব না”। ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জীব মল্লিক বলেন, “আমরা আগেই ওই পরিবারকে বলেছি এখনই বিয়ের ব্যবস্থা করবেন না। বিয়ের বয়স হলে আমরা প্রতিবেশীরা সমস্ত রকম সহযোগিতা করে বিয়ের ব্যবস্থা করব। তাতেই তারা রাজি হয়েছে”। 

মহকুমা শাসক শ্বেতা আগরওয়াল বলেন, “আমরা খবর পেয়ে বুধবার ওই বাড়িতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানো হয়েছিল। তারপরও তারা বিয়ের তোড়জোড় শুরু করেছিল। ঠিক করেছিল নলহাটিতে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দেবে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে এদিন গিয়েছিলাম। বিয়ের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়েছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে বিয়ে দেবে না”।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only