সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

ফের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নয় তো?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, নাগরিকত্ব প্রমাণে একাত্তরের আগের নথি জরুরি নয়। তারা এটাও জানিয়েছে, পাড়ার পরিচিত কিংবা সেই সম্প্রদায়ের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই পাওয়া যাবে নাগরিকত্ব। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, কোনও ভারতীয় নাগরিককে অযথা নিগ্রহ করা হবে না। এক্ষেত্রে ১৯৭১-এর পূর্বের কোনও সার্টিফিকেটই চাওয়া হবে না। এখন প্রশ্ন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কিছুদিন আগেই ১৯৭১-এর পূর্বের নথি জোগাড়ে যথেষ্ট তৎপর ছিল, যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক বার বার বলে এসেছে প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে আসা সংখ্যালঘুদের প্রত্যেককে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে (কেবল মুসলিম বাদে), এমনকী যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রধান অধিকর্তা খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার বার বলে এসেছেন বেছে বেছে মুসলিমদেরই বিতাড়িত করা হবে এবং সদ্য বলা ভোটার কার্ড, আধার কার্ড কোনোটিই যথেষ্ট নয় নাগরিকত্ব প্রমাণে। তাঁরাই আবার কোন উদ্দেশ্যে এতটা সুর নরম করেন? এর পেছনে আবার নতুন করে কোনও ষড়যন্ত্র নেই তো?
নোট বাতিলের কিংবা ১৫ লক্ষ টাকা প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ভরে দেওয়ার মতো মিথ্যে প্রতিশ্রুতি নেই তো? নোট বাতিলের সময় মোদি বলেছিলেন, ৫০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।  বাকিটা সবাই জানে।

তিনি আরও বলেছিলেন, বছরে ২ লক্ষ বেকারকে চাকরি দেবেন। কিন্তু তাঁর আমলেই অনেকে চাকরি খুইয়ে কর্মহীন হয়েছেন। বহু সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতি কতটা বিশ্বাস অর্জন করবে সাধারণের? বর্তমানে দেশের একটি বড় অংশ যখন এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন, সেই হিন্দু-মুসলমানের একত্র আন্দোলনে ঘাবড়ে গিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নয় তো?

আমরা জানি এই সিএএ আতঙ্কেই ইতিমধ্যে সারা দেশে ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকী আন্দোলনে শামিল হতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উপর উর্দিধারী ‘পোশাক’ বাহিনীর যে অকথ্য অত্যাচার তা সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় দেশের মানুষজন তো বটেই, এমনকী রাষ্ট্রসংঘ যখন সংখ্যালঘুদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে বলেছে তখন আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের প্রতি আস্থা কুড়োতে এমন সিদ্ধান্ত নয় তো? এমন অনেক প্রশ্নই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সিদ্ধান্তে মনে ভিড় জমাচ্ছে। এনআরসি হবে কি হবে না, ৭১-এর পূর্বের নথি জরুরি নাকি জরুরি নয়, পাড়ার পরিচিত কারোর ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে নাকি যাবে না, এর উত্তর একমাত্র সময়ই দেবে।

সেক ইমরান 
গোলকুঁয়া চক, পশ্চিম মেদিনীপুর

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only