সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

রাত পোহালেই শুরু শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শান্তিনিকেতন: সোমবার রাত ৯টায় গৌর প্রাঙ্গণে বৈতালিক, রাত ৯-৩০ টায় শান্তি নিকেতন গৃহে সানাই সুরের সাথে এক অর্থে শুরু পৌষ মেলা।  

‘মোরে ডাকি লয়ে যাও মুক্ত দ্বারে’ সঙ্গীতে বৈতালিক এবং উপাসনার মধ্যে দিয়ে শান্তিনিকেতনে শুরু হল ১২৫ তম পৌষ মেলা। মঙ্গলবার সকাল হতেই শান্তিনিকেতন গৃহ থেকে ভেসে আসে সানাইয়ের শুরু। তারপরেই ছাতিমতলায়  বসে উপাসনা। উপাসনায় অংশগ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিদ্যুৎ কুমার চক্রবর্তী, প্রাক্তন আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর প্রমুখ।

বিশ্বভারতী ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার জানান, ১৮৯৪ সালে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন জোড়াসাঁকোয় শয্যাশায়ী। তখন তাঁরই নির্দেশে তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র দ্বিজেন্দ্র নাথ ঠাকুর ভাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপস্থিতিতে ৭ পৌষ উপাসনা গৃহের উদ্বোধন করেন। ধর্মীয়ভাবাপন্ন মানুষের সঙ্গে সেই উপলক্ষে কাঁচ ঘর সংলগ্ন মাঠে এক দিনের মেলা হত। তখন ইলেক্ট্রিক আলো ছিল না। দিনের বেলায় যাত্রা অনুষ্ঠান সারা হত। ১৮৯৪ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত একদিনের পৌষ মেলায় হত। ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠার পর, ১৯৬১ সাল অর্থাৎ গুরুদেবের শতবর্ষ পর্যন্ত ২ দিন মেলা হত। মেলার কলেবর বৃদ্ধি হওয়ায়  সেই সময় থেকে মেলা পূর্ব পল্লীর মাঠে সরে যায়।  ১৯৬১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মূল মেলা ছিল তিন দিনই। 

২০১৬ সালে  পরিবেশ আদালতের নির্দেশে তিনদিনের মেলা শেষ হতেই মাঠ খালি করে দেয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এবার সেই মেলায় চার দিনের ছাড়পত্র মিলেছে। মেলা প্রবর্তনের ৪ বছর বাদে অর্থাৎ ১৮৯৮ সাল থেকে ৭ পৌষ কলকাতা থেকে হাওয়াই বাজি নিয়ে আসা হত। ছোট আকারে পূর্ব পল্লীর মাঠে পোড়ান হত। পরে সুরুল থেকে বাজি নিয়ে এসে বাজি পোড়ানো হত। সেই বাজি পোড়ানো দেখতে ভিড় হত লক্ষ লক্ষ মানুষের। এবারও পরিবেশ আদালতের সেই বাজি পোড়ান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেলার দূষণ বিধি নিয়ন্ত্রণ দেখার জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গড়া হয়েছে। মেলায় যথারীতি থাকছে সত্যপীরের পাঁচালী, বাউল, লোকনৃত্য, কীর্তন, রাইবেশে, সাঁওতালি নৃত্য, স্মৃতিবাসর, যাত্রা পালা ইত্যাদি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only