শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯

দেশজুড়ে গণভোটের ডাক মমতার


পুবের কলম প্রতিবেদক: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে গণভোট হোক। রাষ্ট্রসংঘের নেতৃত্বে পরিচালিত হোক এই গণভোট। তাতে স্পষ্ট হয়ে যাবে দেশের মানুষ আসলে কী চাইছেন। বৃহস্পতিবার রানি রাসমণি রোডে ছাত্র-যুব সমাবেশে যোগ দিয়ে এমনই মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ দিন এই মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও দেশের শাসক দলের উদ্দেশ্যে তিনি একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। এই প্রশ্নগুচ্ছের সঙ্গে তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের আন্দোলন চলবে। 

কারও দয়ায় আমরা এখানে বাস করছি না। আমরা সবাই নাগরিক। ১৯৪৭-এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। এরপরও ৭৩ বছর হয়ে গেল। এতদিন পর কেন আবার নতুন করে প্রমাণ করতে হবে আমরা নাগরিক?  স্বাধীনতার সময় বিজেপি কোথায় ছিল? কেন এতদিন পর ঘুম ভাঙল?  

এ রাজ্যে এনআরসি হবে না। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনও বাতিল করতে হবে। একটা রাজনৈতিক দল যদি ঠিক করে কে থাকবে, কে থাকবে না, তাহলে ভুল হবে। কত শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি, যার বলে যা খুশি তাই করছে তারা। মাত্র ৩৬ শতাংশের সমর্থন নিয়ে ১০০ শতাংশের ভাগ্য কি নির্ধারণ করা যায়?

এটা ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। সবাইকে নিয়ে চলার কথাই বলেছে আমাদের সংবিধান। স্বাধীনতার আগে থেকে এই পরম্পরা চলে আসছে। এমনকী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর আন্দোলনে সঙ্গে রাখতেন শাহনাওয়াজ খানকে। এটাই ভারত। তবে আজ কেন বিভাজন? আপনাদের দুর্ভাগ্য, আপনাদের বাবা মায়ের জন্ম সার্টিফিকেট দিতে বলছে। ৭০ বছর আগের সার্টিফিকেট আপনারা পাবেন কোথায়?

রাজ্যের সবাই নাগরিক। হঠাৎ এমন কী হল যে  বিজেপির মাদুলি পরে আমাদের প্রমাণ করতে হবে আমরা দেশের নাগরিক? আর কেনই বা তার প্রমাণ আমরা বিজেপিকে দেব? বিজেপির জন্ম যেখানে ১৯৮০-তে, সেখানে ৭১-এর নথি ওরা চায় কীভাবে?

বিজেপি আগে বলেছিল আধার না হলে কিছু হবে না। এখন বলছে আধার ভ্যালিড হবে না। আধার নেহি চলেগা তো ক্যায়া চলেগা? আধার নেহি চলেগা তো, ব্যাঙ্ক মে কিঁউ লাগায়া? কিঁউ টেলিফোন মে দিয়া? প্যান নেহি চলেগা তো প্যানকার্ড কিঁউ লায়া? আধার চলবে না, প্যান চলবে না, তো কী চলবে, বিজেপির তাবিজ চলবে?

এটা হিন্দু-মুসলমানের আন্দোলন নয়, এটা দেশের আন্দোলন। এই ঘণ্টাটা কী জন্য? মঙ্গল ঘণ্টা কী কারণে বাজানো হয়? এবার ওরা কী বলবেন? এটা বিজেপির বিদায় ঘণ্টা নয় তো!আমি ঘণ্টা বাজিয়ে দিলাম। একে কেউ বলবেন মৃত্যুঘণ্টা, কেউ বলবেন বিদায়ঘণ্টা, কেউ বলবেন বিসর্জনের ঘণ্টা। এরপর কোনোদিন শাঁখ বাজাব। কোনোদিন কাঁসর বাজাব। কোনোদিন বাউল গান হবে। কখনও আমার সঙ্গে হিন্দু হাঁটবে, কখনও হাঁটবে খ্রিস্টান, কখনও জৈন-পারসিক হাঁটবেন, কখনও বুদ্ধিস্ট হাঁটবেন, কখনও কামতাপুরি-রাজবংশী হাঁটবেন। আমি দেখতে চাই তখন বিজেপি কী বলে?

আমি একটা চাদর পরেছি। বলো দেখি আমি কী? সাদা চাদর পরলে বলবে মুসলিম। গেরুয়া পরলে কী বলবে, বিজেপি! সব গেরুয়া বিজেপি নয়। ফেক গেরুয়া হল বিজেপি।
আগুন নিয়ে খেলবেন না। সব কিছু হারিয়ে গেলে ফেরত পাওয়া যায়। অস্তিত্ব হারিয়ে গেলে কিছু পাওয়া যায় না। এটা কোনও সম্প্রদায়ের আন্দোলন নয়, এটা অস্তিত্বের আন্দোলন। সারা দেশের সবাইকে বলি, একত্রে নামুন। সবাই নামুন। সব রাজ্যে নামুন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only