বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

বাবরি মসজিদের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ ‘দুর্ভাগ্যজনক’ : মুহাম্মদ কামরুজ্জামান

 
পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়া ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছেন ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান। তিনি আজ বৃহস্পতিবার ‘পুবের কলম’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেছেন। 
মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘সম্প্রতি বাবরী মসজিদ নিয়ে  সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল তারফলে আমরা ভেবেছিলাম যে রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আরও একটি সুযোগ মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট দেবেন। কিন্তু সেই পুনর্বিবেচনার আবেদনও যেভাবে আজকে সর্বোচ্চ আদালত খারিজ করে দিয়েছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক! একইভাবে আমরা ভাবছিলাম যেভাবে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা ‘ক্যাব’ নিয়ে গায়ের জোর দেখিয়ে উগ্র আগ্রাসী হিন্দুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিজেপি যে বিল সংসদের উভয় কক্ষে পাস করিয়েছে তারও বিরুদ্ধেও সর্বোচ্চ আদালতের কাছে হস্তক্ষেপ চাইব। এজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত নেওয়া  হয়েছে।’ 
তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার ‘ক্যাব’ নামক যে বিল সংসদে পাস করিয়েছে তা ভারতের সংবিধানের মূল স্পিরিটের বিরোধী। এভাবে ‘ধর্মের উল্লেখ করে’ কোনও ‘বিশেষ ধর্মাবলম্বীদের সুবিধা’ পাইয়ে দিয়ে কিংবা কোনও ‘একটি  ধর্মীয় সম্প্রদায়কে বঞ্চিত’ করে ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে কোনও আইন তৈরি হতে পারে না। এনিয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিশ্চয়ই হস্তক্ষেপ করবে এই প্রত্যাশা আমাদের ছিল। কিন্তু যেভাবে আজকে বাবরি মসজিদের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনকে খারিজ করে দেওয়া হল তাতে এদেশের মুসলিমদের হতাশা, মনের যন্ত্রণা, নিরাপত্তাহীনতা আরও বেশি বেড়ে গেল।’
মুহাম্মাদ কামরুজ্জামান আরও বলেন, ‘এনিয়ে আদালত যদি যথাযথভাবে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্য, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সুরক্ষার জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালনে এগিয়ে না আসে তাহলে আমাদের আন্দোলনের পথে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোনও পথ থাকবে না। সেজন্য দেশজুড়ে যাতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিজেদের আইডেন্টিটিকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য আন্দোলন হয় সেই উদ্যোগ অবশ্যই নেওয়া হচ্ছে। আমাদের সংবিধান সেই আন্দোলন করার অধিকার আমাদেরকে দিয়েছে। 
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব যে, দেশের সব স্তরের মানুষ এই দেশকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বানানোর যে অপচেষ্টা তা ব্যর্থ করবেন। মুসলিমদের কেবলমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়কেই স্বাধীনতার ৭৩ বছর পরেও যেভাবে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, রাস্তায় নামানো হচ্ছে এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক! ‘দেশবাসীর বিবেকের কাছে’ আমরা বিচার চাচ্ছি।’
‘দেশবাসীর ‘বিবেক’ অন্তত ‘হক কথা’ বলবে এবং এর বিরুদ্ধে দেশের মানুষ অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদিদের হিন্দুত্ববাদী আস্ফালনের যোগ্য জবাব দেবে’ বলেও সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান মন্তব্য করেন।
গত ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির  নির্মাণের পক্ষে রায় দিয়েছিল। অন্যদিকে, সরকারকে মসজিদের জন্য বিকল্প পাঁচ একর জমির বন্দোবস্ত করতে বলা হয়। মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকে  ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছিল। 
এছাড়া অযোধ্যায় মুসলিমদের বিকল্প পাঁচ একর জমি দেওয়ার বিরোধিতা করে হিন্দু মহাসভা ও সংশ্লিষ্ট অন্য সংগঠন সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছিল। কিন্ত আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম  কোর্টের পাঁচ বিচারপতির সমন্বিত বেঞ্চ উভয়পক্ষের সমস্ত আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only