বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

‘ক্যা’ ও ‘এনআরসি’ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে ‘গায়ের জোর না দেখানোর হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা

   
পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  ‘সিএএ’ ও ‘এনআরসি’ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘সিএএ’ ও ‘এনআরসি’ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘গায়ের জোর দেখাবেন না’। বিজেপির রাজ্যে সব দেখে নিয়েছেন আপনারা। উত্তর প্রদেশে কী চলছে? রোটি-কাপড়া-মকান অন্ন নেই, বস্ত্র নেই, বাসস্থান নেই। কেবল বড় বড় ভাষণ আছে!’

তিনি আজ বৃহস্পতিবার কলকাতায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ/ক্যা)ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এনআরসি’র বিরুদ্ধে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করে ওই মন্তব্য করেন।   

মমতা আজ ‘সিএএ’ ও ‘এনআরসি’র বিরোধিতায় হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে কলকাতায় এক বিশাল পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। এসময় মিছিলে অংশ নেওয়া মানুষজন, ‘সিএএ’ ও ‘এনআরসি’ বাতিল করো,  ‘সিএএ’ ও ‘এনআরসি মানছি না-মানব না’ স্লোগানে সোচ্চার হন।

উত্তর প্রদেশে সিএএ ও এনআরসি বিরোধী মিছিলের সময়  ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় সেরাজ্যের সরকার অভিযুক্তদের সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণের যে ঘোষণা দিয়েছে সেই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘কোথায় কোথায় কে মারা গেছেন আমরা বিস্তারিত জানি না। এখন বলছে যারা আন্দোলন করেছে তাঁদের ঘরবাড়ি সম্পত্তি সব  ক্রোক  করা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আমি বলব বিজেপি  পার্টিকে, আগুন নিয়ে খেলবেন না। সরকারি সম্পত্তি নষ্টের আইন আছে। আমরাও তা জানি। কিন্তু এটা স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। আইন আমাদেরও আছে। স্বতঃস্ফূর্ত  যে   আন্দোলন শান্তির পক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা এসব করি না।’

বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘যদি আপনারা মনে করেন উত্তর প্রদেশে অত্যাচার করবেন, দিল্লিতে অত্যাচার করবেন তবে বিজেপি পার্টি জেনে রেখে দিন, সারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনেক বিরোধী দলের সরকারও আছে। একই তত্ত্ব  (দমনমূলক নীতি) যদি প্রয়োগ হয় তাহলে সেটা কী ভালো হবে? সেটা দেশের জন্যও ভালো হবে না, রাজ্যের জন্যও ভালো হবে না। কারোর জন্য তা ভালো হবে না। সেজন্য এখনও বিবেক বুদ্ধি প্রয়োগ করুন এবং ‘ক্যা’ বাতিল করুন। হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে পার্থক্য বাতিল করুন। শিখ-খ্রিস্টানে বিভাজন বন্ধ করুন।’ 

তিনি বলেন, ‘মনে  রাখবেন আমরাও কিন্তু হিন্দু ঘরের লোক। এটা মাথায়  রাখবেন। আপনি একা হিন্দু নন, হিন্দু আমরা সবাই। আমরা কেউ হিন্দু, কেউ মুসলিম, কেউ শিখ, কেউ খ্রিস্টান, কেউ জৈন, কেউ পারসিক, কেউ বা বৌদ্ধ। মনে রাখবেন ভালো করে, আমরা সবাই কিন্তু আন্দোলনে আছি। এখানে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে ভাগাভাগি করা যাবে না।’ 

‘ক্যা’ ও এনআরসি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only