রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

লক্ষ লক্ষ নয়, নাগরিকত্ব আইনের সুবিধা পাবেন মাত্র ৩১,৩১৩ জন

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু অত্যাচারিত হয়ে এদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের নাগরিকত্ব দিতেই সংসদে পাস করতে হবে নাগরিকত্ব বিল। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বলে তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে ইনসাফ করা হবে। সংসদে এমন কথাই বারবার বলে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটি (জেপিসি)-র একটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, মাত্র ৩১,৩১৩ জন পড়শি দেশের সংখ্যালঘু অমুসলিম এই নয়া আইনের সুবিধা লাভ করবেন। ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই রিপোর্ট তৈরি হয়।

নয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই আইন। নয়া বিলের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়েই অমিত শাহ সংসদে বারবার প্রতিবেশী ইসলামিক রাষ্ট্রগুলি থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের ফলে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ শরণার্থীদের কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও বাংলাদেশ এই বক্তব্যের স্পষ্ট বিরোধিতা করে জানিয়েছে, সেখানে কোনও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে না। অন্যদিকে, ওয়াকিফহাল মহলের বক্তব্য, যেভাবে লাখ লাখ শরণার্থীর কথা ভেবে বিজেপি সরকার বিল পাস করাল, তাদের কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। জেপিসির দেওয়া এই রির্পোটের তথ্যও সেই অনুমানকেই সত্য বলে প্রমাণ করে।

জেপিসি ২০১৬-তে এই প্রতিবেদনটি সংসদে পেশ করেছিল। তারা আইবির কাছে জানতে চেয়েছিল– কতজন ‘নির্যাতিত সংখ্যালঘু’ এই প্রস্তাবিত বিলের সাহায্যে উপকৃত হবে। এর জবাবে আইবি যে রিপোর্ট দেয়, তাতে দেখা যাচ্ছে, ২৫৪৪৭ জন হিন্দু, ৫৮০৭ জন শিখ, ৫৫ জন খ্রিস্টান, ২ জন বৌদ্ধ ও পার্সীকে ভারতে বসবাস করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, তারা প্রতিবেশী ওই তিনটি দেশ থেকে ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার হয়ে এ দেশে এসেছেন ও নাগরিকত্ব চান। সেই তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ৩১,৩১৩ জন এই মুহূর্তে নতুন আইনের সুবিধা পাবেন। তবে তারা যে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে এ দেশে এসেছেন, তা প্রমাণ করতে হবে।   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only