বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

‘সিএবি’ ও এনআরসি’র কার্যকর হলে কেবলমাত্র মুসলিমদেরকেই বেআইনি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হবে : পি চিদম্বরম


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা পি চিদম্বরম বলেছেন, ‘সিএবি’ ও এনআরসি’র কার্যকর হলে কেবলমাত্র মুসলিমদেরকেই বেআইনি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হবে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে তাঁর ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে। 
  
তিনি বলেন, তিন তালাককে ফৌজদারি অপরাধ করে দেওয়া, অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ এনআরসি চাপিয়ে দেওয়া, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা এবং এখন পাশ করিয়ে নেওয়া হল নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল—এসব হল “হিন্দু রাষ্ট্র”  নির্মাণ কর্মসূচির পথে এগনোর নানা ধাপ। এই পদক্ষেপের নেপথ্যের সাধারণ উদ্দেশ্যটি হল—ভারতের মুসলিমদের প্রতি খোলাখুলি এবং দ্ব্যর্থহীন বার্তাটি দেওয়া যে, তারা এই দেশের সমান নাগরিক নয় এবং ভারত ‘হিন্দু রাষ্ট্র’—গোলওয়ালকার-সাভারকর তত্ত্বটিরই পুনরাবৃত্তি করা।’

তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠা সত্ত্বেও, এবং এটা নিয়ে প্রায় সর্বত্র উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও, একটি ‘অসাংবিধানিক বিল’ পাশ করতে সরকারি প্রশাসনের সঙ্গে সংসদ সহযোগিতা করল। সমতা এবং সাংবিধানিক নৈতিকতা পুনরুদ্ধারের দায়িত্বটি এবার বিচার-বিভাগের কাঁধে ন্যস্ত হল বলেও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা পি চিদম্বরম মন্তব্য করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘যদি ‘সিএবি’ ও এনআরসি’র দুটিই কার্যকর করা হয় তবে এটাই দাঁড়াবে যে, এনআরসিতে বাদ পড়া ‘অমুসলিমদের’ সিএবি’তে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তার মোদ্দা মানে দাঁড়াবে এই যে, ‘কেবলমাত্র মুসলিমদেরকেই  বেআইনি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে বহিষ্কার করা হবে’। এর ফল হবে মারাত্মক!    

নতুন বিধানে একবার বাদ পড়া মানুষগুলোকে, কোনও দেশ যতক্ষণ না গ্রহণ করতে সম্মত হয়, ভারত সরকার অবশ্যই বিভিন্ন ক্যাম্পে তাদের পৃথক করে রাখবে। প্রশ্ন উঠবে এই ধরনের ক্যাম্প কোথায় বানানো হবে এবং কতগুলো  ক্যাম্প দরকার হবে? যারা ‘ইললিগাল ইমিগ্রান্টস’ ঘোষিত হবে তারা কী বাকি জীবনটা ওই ক্যাম্পেই কাটিয়ে দেবে? জানতে ইচ্ছে করে তাদের সন্তানদের নাগরিক পরিচয়টা (স্টেটাস) কী হবে?    

পাশাপাশি থাকবে ‘প্রকারান্তরে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’ অনির্দিষ্টকালের জন্য লক্ষ লক্ষ মুসলিম নারী-পুরুষ বন্দি হওয়ার সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—ভারতের অভ্যন্তরে এবং বিদেশেও। ভারতে ‘ক্লিনজিং’-এর  প্রতিক্রিয়ায় শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার এবং পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের উপর ভারতে উঠে যাওয়ার ব্যাপারে চাপ থাকবে’ বলেও পি চিদম্বরম মন্তব্য করেছেন।  

কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবেশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের ফলে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এদেশে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, পার্শিদের জন্য সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেবে। এক্ষেত্রে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশে মুসলিমদের বাদ দিয়ে এভাবে ধর্মীয়ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে বিভিন্নমহল থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only