রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৯

অপুষ্টি নিয়ে সংসদে সরব আহমদ হাসান

পুবের কলম, নয়াদিল্লি­: আজকের শিশু কালকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে অপুষ্টি বৃহৎ সমস্যা। দারিদ্র্যের কারণে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে অপুষ্টি। মারাত্মক এই অবস্থা নিয়ে রাজ্যসভায় সরব হন সাংসদ আহমদ হাসান (ইমরান)। তিনি বলেন, প্রতিটি ভারতীয় যাতে সস্তায় পুষ্টিকর খাবার পেতে পারেন সেদিকে জোর দিতে হবে। পুষ্টিকর খাবার একবার দিয়ে কাজ সারলে হবে না। তা স্থায়ী করতে হবে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, সস্তায় পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান করতে গেলেও মাথাপিছু কমপক্ষে প্রতিদিন ২০০ টাকা রোজগার জরুরি। দেশের অগণিত মানুষের কাছে এটা বিরাট চাপের। দারিদ্র্যের কষাঘাতে তাদের অনকের হেঁসেলে প্রতিদিন হাঁড়ি চড়ে না। পুষ্টিকর খাবার তো দূরের কথা, প্রতিদিন পেট ভরবে কীভাবে, তা নিয়ে চিন্তায় অস্থির তারা। এর ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিশুরা। অপুষ্টির কারণে তাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে তারা দ্রুত অসুখে পড়ে।
সমীক্ষা বলছে ৫ বছরের নীচে যেসব শিশুর মৃতু্য হয়েছে তাদের মধ্যে অর্ধেক শিশু মারা গিয়েছে অপুষ্টির কারণে। ২০১৭-র হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা হল ৭ লক্ষেরও ওপর। অপুষ্টির কারণে জন্মগ্রহণের পর থেকে ভুগছে শিশুরা। তবে ৫ বছরের নীচে শিশুমৃতু্যর যে খতিয়ান গত ৫ বছরে খানিকটা বদলেছে। তবে অপুষ্টিজনিত মৃতু্যহার এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, স্কুলে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। মিড-ডে মিলেও বহু জায়গাতেও পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন না করার অভিযোগ উঠছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষা দফতর এক্ষেত্রে মিড-ডে মিলের মেন্যু নির্ধারিত করে দিয়েছে। সেখানে আমিষ এবং নিরামিষ দুই ধরনের পুষ্টিকর খাবার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পুষ্টিকর মসুর ডাল মিড-ডে মিলে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। আজকের শিশুকে কালকের ভবিষ্যৎ বানাতে গেলে তা পুষ্টির সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না। রাজ্যসভায় সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন আহমদ হাসান। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only