বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

সংসদে ক্যাব পাস হলে মুসলিম হয়ে যাব:­ হর্ষ মান্দার

এনআরসির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে 'আইন অমান্য আন্দোলনের' ডাক


 সাত ঘণ্টার বেশি উত্তপ্ত বাক-বিতণ্ডার পর সোমবার গভীর রাতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল– ২০১৯ (ক্যাব) পাস হয়েছে লোকসভায়। এই বিলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে--- পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ২০১৪-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, ক্রিস্টান, জৈন ও পার্সিরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবে। বাদ শুধু মুসলিমরা। ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানকে মান্যতা দেয় না দেশের সংবিধান। ফলত সংবিধান-বিরোধী এই বিলের বিরুদ্ধে উত্তাল দেশ, বিবেকবান জনতা। 

বুধবার বিলটি রাজ্যসভায় পেশ হচ্ছে। এই দেশ-বিরোধী বিলের বিরুদ্ধে বরাবরই সরব বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার হর্ষ মান্দার। মঙ্গলবার তিনি লোকসভায় বিল পাস হওয়ায় সোশ্যাল সাইটে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, ‘যদি এই বিল সংসদে পাস হয়ে যায় তবে আমি অফিসিয়ালি মুসলিম হয়ে যাব।’ তাঁর এই মন্তব্যের অর্থ, রাজ্যসভায় ক্যাব পাস হলে তিনি ইসলামকে নিজের ধর্ম হিসেবে ঘোষণা করবেন। মুসলিমদের অন্যায্য ভাবে এই বিলের বাইরে রাখার প্রতিবাদেই হর্ষ মান্দার নিজেকে মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেবেন। 

মুসলিমদের যেভাবে অসাংবিধানিক উপায়ে নাগরিকত্ব বিলের বাইরে রাখা হল তা নিয়ে সরব বহু মানুষই। তবে হর্ষ মান্দারের মন্তব্য অভিনব। তিনি এনআরসিকেও মানতে চাননি। মান্দার লিখেছেন, ‘এনআরসির জন্য কোনও নথিপত্র আমি জমা দেব না। নথিহীন ডিটেনশন সেন্টারের একজন মুসলিম ও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া মানুষের মতোই সমান শাস্তির দাবি করব। আসুন, সবাই এভাবে আইন অমান্য করি।’ মহাত্মা গান্ধি আইন অমান্য আন্দোলন করেছিলেন, ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে লবণ তৈরি করে। হর্ষ মান্দার সেই একই নীতির পথ বাতলেছেন দেশের মানুষকে। জনপ্রতিনিধিরাই যখন জনবিরোধী এমন একটি বিল পাস করাচ্ছেন, তখন তাঁদের গড়া সরকারের আইন অমান্যই একমাত্র পথ। তাই এনআরসি তথা জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে নাম তোলার জন্য ডকুমেন্ট না দিয়ে সরকারকে সাহায্য না করার আহ্বান এই মানবাধিকার কর্মীর। তাঁর সুরে সুর মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘হ্যাশট্যাগ ক্যাব-এনআরসি-সত্যাগ্রহ’ ট্রেন্ড চালু হয়েছে। সবার উদাত্ত ঘোষণা, নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে আমরা কোনও ডকুমেন্ট জমা দেব না সরকারের কাছে। 

ইতিপূর্বে মান্দার ক্যাব-এনআরসি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, এটা দেশভাগের স্মৃতি ও উদ্বেগ ফিরিয়ে আনছে। এটাকে বিজেপির ‘গেমপ্ল্যান’ বলে তিনি আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ক্যাবের মাধ্যমে মুসলিম বাদে সব সম্প্রদায়ের নাগরিকত্ব সুরক্ষিত করে নেওয়া হচ্ছে। তারপর দেশজুড়ে এনআরসি। আমরা ভারতবাসী হিসেবে যে বিশ্বাস নিয়ে এতদিন ছিলাম, তাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এই প্রক্রিয়া।  

জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদের প্রতিবাদে আইএএসের চাকরি ছেড়েছিলেন শশীকান্ত সেন্থিল। তিনি মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে একটি চিঠি লিখে জানিয়েছেন, আধুনিক ভারতের ইতিহাসে সোমবার অন্ধকারতম দিন হয়ে থাকবে। তিনিও হর্ষ মান্দারের মতো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমি এনআরসির জন্য কোনও নথি সরকারকে জমা দেব না। আইন অমান্য করব। এতে রাষ্ট্র যদি আমাকে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়, তা আমি খুশি মনে মেনে নেব। তবু নীরব দর্শক হয়ে থাকব না।’ দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদও গণ আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন ক্যাব ও এনআরসির বিরোধিতা করে।     


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only