বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

টিপু সুলতানকে বাদ দিয়ে মহীশূরের ইতিহাস পড়ানো অসম্ভব, জানাল কর্নাটক সরকারের বিশেষজ্ঞ কমিটি


টিপু সুলতানকে কর্নাটকের পাঠ্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক চলছিল কয়েক মাস ধরেই। সংঘ পরিবারের দাবি ছিল, স্বাধীনতা সংগ্রামী টিপু সুলতানকে সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া হোক। অন্যদিকে, ইতিহাসবিদদের মত, অষ্টাদশ শতকে মহীশূরের শাসক টিপু সুলতান স্বাধীন থাকার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। সামরিক সজ্জা, বিজ্ঞানে বিশেষ উন্নতি লক্ষ করা যায় তাঁর আমলে (১৭৮২-১৭৯৯)। পাঠ্যসূচিকে গেরুয়াকরণের প্রক্রিয়া হিসেবেই টিপু সুলতান-বিরোধী একটা প্রচার করে আসছিল বিজেপি ও তার সহযোগীরা। এ ব্যাপারটি খতিয়ে দেখার জন্য কর্নাটক টেক্সটবুক সোসাইটি (কেটিবিএস) একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল। এ সপ্তাহেই বিশেষজ্ঞ কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট দিয়েছে, পাঠ্যসূচিতে টিপু সুলতানকে নিয়ে যে অধ্যায়গুলি রয়েছে, সেগুলি বাদ দেওয়া যাবে না, আগের মতোই রাখতে হবে। কেটিবিএসের বক্তব্য, টেক্সটবুকগুলিতে টিপু সুলতানকে নিয়ে কোনও অতিরঞ্জিত তথ্য নেই। নিরপেক্ষভাবে তাঁর প্রকৃত অবদানগুলি সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপকদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তাঁদের মত, ষষ্ঠ, সপ্তম ও দশম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে টিপু সুলতানের অবদানের খুব বেশি বর্ণনা দেওয়া নেই। একটা সাধারণ ধারণা দেওয়া হয়েছে মাত্র। ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবে তিনি অবশ্যই কর্নাটকের স্কুল সিলেবাসে জায়গা পাবেন। তাঁকে বাদ দিয়ে মহীশূরের ইতিহাস শেখানো যাবে না।  

এ বছরের অক্টোবরে কর্নাটকের বিজেপি এমএলএ আপ্পাচু রঞ্জন টিপুকে সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন– বইগুলিতে নাকি সুলতানকে নিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে। তিনি এই অদ্ভুত দাবিও করেন যে, টিপু সুলতান ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ ছিলেন না। অথচ তাঁকে এই মর্যাদা দিয়ে প্রতি বছর নভেম্বরে (টিপুর জন্মমাস) কর্নাটকে উৎসব পালন করা হয়। শশী থারুরের মতো বিদগ্ধ ব্যক্তিও টিপু সুলতানকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামী বলে স্বীকার করেছেন। বিজেপি এমএলএ-র মন্তব্যের কয়েকদিন পরে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পাও এই বিষয়টি নিয়ে তার দলের সুরে সুর মেলান এবং টিপু সুলতানকে পাঠ্যসূচি থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেন। এরপর এই কমিটি গঠন করেছিল তারই সরকার। সেই বিশেষ কমিটি এখন টিপুর পক্ষেই রিপোর্ট দিল। 

কেটিবিএস-এর বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক অশ্বথানারায়ণ জানিয়েছেন, কমিটি যে রিপোর্ট সরকারকে দিয়েছে তা প্রামাণ্য নথির মাধ্যমেই দেওয়া হয়েছে। সরকার এবার সুলতানকে সিলেবাস থেকে বাদ দেবে কি না সেটা রাজ্য সরকারের উপরই নির্ভর করছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only