বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

মুসলিমদের রাষ্ট্রহীন করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে : আসাদউদ্দিন ওয়াইসি


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিমদের রাষ্ট্রহীন করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল-মুসলেমিন’ (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি। আজ বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেন। 

ওয়াইসি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ইস্যুতে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, তার দল যেকোনো ভাবেই হোক এর বিরোধিতা করবে এবং অন্যান্য দলকেও বিরোধিতা করার অনুরোধ করবে।

ওয়াইসি বলেন, সংবিধানে ‘নাগরিকত্ব’কে ধর্মের সাথে যুক্ত করা হয়নি। এই প্রথম এমন ঘটছে যখন বিজেপি সরকার তার আসল চেহারা দেখাচ্ছে! প্রধানমন্ত্রী দেখিয়ে দিয়েছেন যে তিনি তাঁর আদর্শ অনুসরণ করছেন, সংবিধানের নয়। এটি সংবিধানের ১৪ ও ২১ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন!’ 

তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের পরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি  এনআরসি আসবে, এরমধ্যে ‘যারা মুসলিম নয়’ তাঁরা সকলেই নাগরিকত্ব  পাবে। এবং মুসলিমদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে, এটাই ওঁদের ষড়যন্ত্র। মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নয় বরং রাষ্ট্রহীন করতে চাচ্ছে। মোদী সরকার দেশকে বিভক্ত করার কাজ করছে।  
সংবিধানের প্রস্তাবনার উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াইসি বলেন, ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল তৈরি করে সরকার ভারতকে ইসরাইলের কাতারে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এর বিরোধিতা করা প্রত্যেকের দায়িত্ব, কারণ এটি সংবিধান, নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।’

অসমে এনআরসি বাস্তবায়িত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেখানে মুসলিমদের টার্গেট করা হয়েছিল। এখন তাদের মামলা বিদেশি ট্রাইব্যুনালে ঝুলবে। তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে।’  

কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করে তিনি বলেন, দেশে এনআরসি’র দরকার নেই। আপনারা অসমে চেষ্টা করে দেখেছেন। ওয়াইসি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান ও বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন কিন্তু তাঁর নিজ দেশের নাগরিকদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। দেশে যতক্ষণ সংবিধান থাকবে ততক্ষণ একে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করা যাবে না বলেও আসাদউদ্দিন ওয়াইসি মন্তব্য করেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only