মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯

কেরল বিধানসভায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের প্রস্তাব পাস


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি করা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর বিরুদ্ধে কেরল বিধানসভায় প্রস্তাব পাস হয়েছে। আজ সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকারের পক্ষ থেকে আনা ‘সিএএ’প্রত্যাহারের প্রস্তাবটি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী ইউডিএফ জোট সমর্থন করে।কিন্তু বিধানসভার একমাত্র বিজেপি সদস্য ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁর সরকার তার রাজ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ)এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) কার্যকর করবে না। ১৩৯ সদস্য সম্বলিত বিধানসভায় আজ (মঙ্গলবার) ‘সিএএ’প্রত্যাহারের প্রস্তাব পেশ হলে তা ১৩৮ ভোটে পাস হয়েছে। এরফলে কেন্দ্রীয় সরকারের উপরে চাপ বাড়ল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 
বিজয়ন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত তার সংকীর্ণ ও বৈষম্যমূলক মনোভাব ত্যাগ করা এবং সবার সাথে সমান আচরণ করা।’  

কেরালা বিধানসভা হ'ল দেশের প্রথম বিধানসভা যা ‘সিএএ’ বাস্তবায়নের প্রয়াসের বিরুদ্ধে এই জাতীয় একটি প্রস্তাব পাস করল।বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) প্রত্যাহারের দাবিতে  মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন আজ রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব উত্থাপন করে। প্রস্তাবটি উপস্থাপনের সময় বিজয়ন বলেন, ‘সিএএ’ দেশের ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বিরোধী এবং এরফলে নাগরিকত্ব দেওয়ার  ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য হবে। 

তিনি বলেন, ‘এই আইন সংবিধানের মৌলিক মূল্যবোধ এবং নীতিমালার বিরোধী।দেশের জনগণের মধ্যে উদ্বেগের বিষয়টি  বিবেচনায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ‘সিএএ প্রত্যাহার এবং সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।’ কেরালায় কোনও ডিটেনশন কেন্দ্র তৈরি করা হবে না বলেও বিজয়ন সাফ জানান।  

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেরালার ধর্মনিরপেক্ষতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গ্রীক, রোমান, আরব প্রত্যেকেই আমাদের ভূমিতে পৌঁছেছিল। খ্রিস্টান ও মুসলিমরা অনেক আগেই কেরালায় পৌঁছেছিল। আমাদের ঐতিহ্য হল অন্তর্ভুক্তিমূলক। বিধানসভায় আমাদের সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

বিধানসভায় আজ কংগ্রেসের বিধায়ক বি ডি সতিশন বলেন,  জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ‘এনআরসি’ ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’ একই মুদ্রার দুইপিঠ। ‘সিএএ’সংবিধানের ১৩, ১৪ ও ১৫ ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন।’ 

সিপিআই বিধায়ক দিবাকরণ বলেন, ‘বিধানসভায় এই জাতীয় প্রস্তাব উত্থাপন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এজাতীয় প্রতিবাদ ভারতে আর কখনও দেখা যায়নি। এই প্রস্তাব উপস্থাপন করে বিশ্বের কাছে  বার্তা দেওয়া করা হচ্ছে।’বিধানসভার একমাত্র বিজেপি বিধায়ক ও রাজগোপাল সরকারপক্ষের ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে একে সংকীর্ণ রাজনৈতিক মানসিকতার প্রতিফলন বলে অভিহিত করেছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only