বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

গাছ কাটা রুখতে ঈশ্বরকে কাজে লাগালেন এক পরিবেশপ্রেমী

পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: দূষণের বিষবাষ্পে মুখ ঢেকেছে রাজধানী দিল্লি সহ সংলগ্ন অঞ্চল। দূষণ থেকে বাঁচাতে পারে একমাত্র সবুজায়ন। কিন্তু তাও শিক্ষা নেই! লাগামহীন ভাবে চলছে গাছ কাটার কাজ। কাজে আসছে না কোনও জুজু। উত্তরপ্রদেশের এক পঞ্চায়েত প্রধান গাছ বাঁচাতে কাজে লাগালেন ঈশ্বরকে!

কীভাবে?

ওপরওয়ালাকে ভয় পান না এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তাই গাছ বাঁচাতে ঈশ্বরের ওপরই ভরসা করলেন পরাগদুত মিশ্র। তিনি লক্ষ্য করেন, কোনও শাস্তি কোনও হুমকিই কাজে আসছে না। নির্বিচারে চলছে গাছ কাটার কাজ। তাই ভাবলেন গাছের গায়ে যদি দেব দেবীর ছবি, ধর্মীয় চিহ্ন এঁকে দেওয়া যায়, তাহলে কেমন হয়? দেবতার ছবি কিংবা চিহ্ন দেখলে সেই গাছে কুড়ুলের কোপ বসাতে ভয় পাবেন গ্রামের মানুষ। তাতেই বেঁচে যাবে গাছের প্রাণ। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। তাতেই মেলে মিরাক্যাল রেজাল্ট।

ওয়াজিরগঞ্জ ডেভেলপমেন্ট ব্লকের মধ্যে রয়েছে নাগওয়া পঞ্চায়েত। ওই পঞ্চায়েতেরই প্রধান হলেন পরাগদুত মিশ্র। তিনি বলেন, উন্নয়ন আর রাস্তা সম্প্রসারণের নামে রোজ গাছ কাটা হচ্ছে। গ্রামবাসীরা জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুতন্ত্র, পরিবেশ দূষণ এসব বোঝেন না। একমাত্র গাছে ধর্মীয় কিছু দেখলেই আর গাছ কাটে না। তারা শুধু ভগবানকেই বিশ্বাস করেন।

গ্রামবাসীদের এই বিশ্বাসকেই গাছ রক্ষার কাজে লাগান পরাগদুত। বাড়ি থেকে বেরলেই সঙ্গে নেন রং আর সিঁদুর। গাছ দেখলেই তাতে এঁকে দেন দেব-দেবীর ছবি, ত্রিশূল কিংবা চিহ্ন। তারপর লেপে দেন সিঁদুর। এক একটি গাছে রং করতে খরচ লাগে ২০০টাকা। সে টাকা অবশ্য নিজের পকেট থেকেই খরচ করেন তিনি। পরাগদুতের আক্ষেপ, তিনি প্রধান হওয়ার পরও অনেক গাছ লাগিয়েছিলেন। কিন্তু উন্নয়নের চক্করে সবই কাটা গেছে। তাঁর পঞ্চায়েত এলাকায় আট হাজার মানুষের বাস। গাছ রয়েছে ১০ হাজার। সেই অবশিষ্ট গাছ বাঁচাতে হাতে তুলি আর রং নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন পরাগদুত মিশ্র। দেশের রাজনীতিকরা যখন রাজনীতি করতে মগ্ন, ধর্ম নিয়ে খেলা করতে ব্যস্ত তখন পরাগদুত ব্যস্ত গাছ বাঁচানোর জন্য। তাঁর এই কাজকে অভিনন্দন জানান দেশবাসীরা।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only