শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

ভারতে নাগরিকত্ব আইনের প্রভাব সম্পর্কে মার্কিন উদ্বেগ, ভ্রমণে সতর্কতা জারি


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন কূটনীতিক স্যাম ব্রাউনব্যাক। গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কার্যকরী করার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র খুবই উদ্বিগ্ন! 

লার্জ ফর ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের রাষ্ট্রদূত স্যাম ব্রাউনব্যাক  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় বলেন, ‘ভারতের অন্যতম বড় শক্তি তার সংবিধান। গণতন্ত্র হিসেবে আমরা ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মান করি। কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের ফলাফল নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন!’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতা-সহ তার সমস্ত সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি মেনেই চলবে।’

আগামী সপ্তাহেই ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা রয়েছে। তার আগেই স্যাম ব্রাউনব্যাক ওই মন্তব্য করলেন। আগামী ১৮ ডিসেম্বর ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী  সচিব মাইক পম্পেও এবং প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এস্পারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে কথা রয়েছে।  
অন্যদিকে, জেনোসাইড ওয়াচের গ্রেগরি স্ট্যান্টন গত বৃহস্পতিবার  ভারতীয়-আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল, এমগেজ অ্যাকশন এবং হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় কাশ্মীর ও অসমের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নাগরিকত্ব আইনের বিষয়টির উল্লেখ করে গ্রেগরি স্ট্যান্টন বলেন, কাশ্মীর এবং অসম উভয় ক্ষেত্রেই ‘চলমান গণহত্যা' ‘গণহত্যার দশ ধাপে'র নীতি অনুসরণ করে চলছে। 

১৯৯৬ সালে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী দফতরে কাজ করার সময় একটি উপস্থাপনা হিসেবে বিখ্যাত ‘জেনোসাইডের দশ ধাপ’ তৈরি করার জন্য সুপরিচিত ছিলেন গ্রেগরি স্ট্যান্টন। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের রেজোলিউশনের খসড়াও তৈরি করেছিলেন যার উপর ভিত্তি করে রুয়ান্ডায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং বুরুন্ডি তদন্ত কমিশন তৈরি করা হয়েছিল।

এসবের মধ্যেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠা উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে সফরে সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া ওই অঞ্চলে আপাতত পা না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রবাসী ভারতীয় এবং মার্কিন নাগরিকদের। 

ব্রিটেনও তাঁদের নাগরিকদের জন্য গোলযোগপূর্ণ এলাকায় সফরের বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতে, বিশেষত অসম ও ত্রিপুরায় সহিংস বিক্ষোভের খবর পাওয়া গিয়েছে। গুয়াহাটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে ও মোবাইল ইন্টারনেট  পরিসেবা স্থগিত করা হয়েছে। সেজন্য ওই অঞ্চলে পরিবহণ পরিসেবার উপরে প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে ব্রিটেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only