বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

বাঙালির বড়দিন

আহমদ হাসান ইমরান

২৫ ডিসেম্বর। বাঙালির বড়দিন। সারাদুনিয়ায় অবশ্য তা ‘ক্রিসমাস’ হিসেবেই পরিচিত। চতুর্থ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে চার্চ কর্তৃপক্ষ ২৫ ডিসেম্বরকে যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন হিসাবে পালন শুরু করেন। আর ব্রিটিশ আমল থেকেই পশ্চিমবাংলার বাঙালিরা ২৫ ডিসেম্বরকে ‘বড়দিন’ হিসাবে আপন করে নিয়েছে। তাই বাংলায় এখন ‘বড়দিন’ শুধু  খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই,  বরং তা বাঙালিরও উৎসব হয়ে উঠেছে। প্রায় ১ বছরের ব্যবধানে ২৫ ডিসেম্বর আমার ফের চার্চে যাওয়ার সুযোগ ঘটল। কলকাতার সেন্ট থমাস চার্চের ‘মর্নিং মাস্’-এ উপস্থিত থেকে অনুপম এক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হলাম।

যখন আমি চার্চের প্রেয়ার হলে প্রবেশ করলাম, দেখলাম ইংরেজিতে যিনি মাস্ পরিচালনা করবেন সেই ফাদার তখন কনফেশন বক্সে একে একে দুই মহিলার স্বীকারোক্তি শুনছিলেন। আমি গিয়ে পরিচয় দিতেই ফাদার সাগ্রহে করমর্দন করলেন। বললেন, ‘ওয়েলকাম’। আমি জানালাম, তৃণমূল কংগ্রেসের একজন এমপি হিসেবে আমি খ্রিস্টান ভাই-বোনদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনায় অংশ নিতে এসেছি। ফাদার খুব খুুশি হলেন। আমার হাত ধরে মূল মঞ্চের দিকে নিয়ে এলেন। সমবেত উপাসনাকারীদের সঙ্গে ফাদার নিজেই আমার পরিচয় করিয়ে দিলেন। শুরু হল মাস্। ফাদারের বক্তব্য ও প্রার্থনার সঙ্গে পিয়ানোর মূর্ছনা এক অপূর্ব পরিবেশ গড়ে তুলল। উপাসনাকারীদের মধ্যে যাঁরা এসেছিলেন– তাঁদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন অ্যাংলো ইন্ডিয়ান– বাংলা ও হিন্দিভাষী। প্রার্থনা শেষে বহু উপাসনাকারী আমার সঙ্গে এসে হাত মেলালেন। বললেন, ‘চার্চে আসার জন্য ধন্যবাদ’। ছিলেন প্রায় সমসংখ্যক মহিলাও। বাইরে বেরতেই দেখি সেন্ট থমাস চার্চের প্রধান ফাদার দাঁড়িয়ে রয়েছেন। শুভ বড়দিন বিনিময়ের পর আমাকে বললেন, ‘তৃণমূল সাংসদদের চার্চে এসে এভাবে পাশে দাঁড়ানোকে আমরা এক বাঞ্ছনীয় উদ্যোগ বলে মনে করি’। বাইরে তখন উপাসনা-ফেরত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কলরব।

আমার মনে পড়ল, পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রী এই সৌহার্দ্য-উদ্যোগের সূচনা করেছেন। ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত্রেও তিনি উপস্থিত ছিলেন রাইটার্স বিল্ডিং ও ক্যানিং স্ট্রিটের কাছে পুরনো এক পর্তুগিজ চার্চে। এই দৃশ্য ভারতের অন্যান্য রাজ্যে খুবই বিরল। যখন দেশে বিভাজনের রাজনীতি চলছে, সেই সময় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাটিয়ে সম্প্রীতির এই মেলবন্ধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতাই অগ্রণী। আর বাংলার মানুষও আনন্দিত চিত্রে তাঁকেই অনুসরণ করছেন। 

আমি এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদীয় দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও শুকরিয়া জানাতে চাই। তিনিই আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, সেন্ট থমাস চার্চের রাত্রিকালীন কিংবা সকালের মাস্-এ উপস্থিত থাকতে। ধন্যবাদ ডেরেক ভাই। তোমার জন্যই অনন্য এক অভিজ্ঞতার শরিক হলাম।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only