বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

এনপিআর নিয়ে আশঙ্কা কাটছে না আমজনতার

যাঁদের কাঁধে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব, তাঁদের পরস্পর বিরোধী মন্তব্যে বিভ্রান্ত হচ্ছে দেশের মানুষ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে তাঁদের বক্তব্য। তাতেই এনপিআর নিয়ে আশঙ্কা কাটছে না আমজনতার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সঙ্গে এনআরসি’র কোনও সম্পর্ক নেই। এটা নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন। তারপর এখন এনপিআর-এ  অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বলছে– এই এনপিআরের সঙ্গেও এনআরসি’র কোনও সম্পর্ক নেই। অথচ– সাম্প্রতিক অতীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ একাধিক কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ছাড়াও বহু বিজেপি নেতা ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্র সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন আনবে। তারপর দেশজুড়ে এনআরসি হবে। আর এনআরসি’র আগে এনপিআর করা হবে। কারণ, এনপিআর হচ্ছে এনআরসি’র প্রথম ধাপ। অথচ এখন বলা হচ্ছে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর সঙ্গে এনআরসি’র সম্পর্ক নেই। এমনকি এনপিআরের সঙ্গেও এনআরসি’র সম্পর্ক নেই। স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ত্রয়ী নিয়ে (সিএএ-এনপিআর-এনআরসি) সাধারণ মানুষের মধ্যে  বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সমাজকর্মীদের অভিযোগ, ধোঁয়াশা দূর করার পরিবর্তে এই নিয়ে তা আরও বাড়িয়ে চলেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ফলে চূড়ান্ত বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। কোনটার সঙ্গে কার যোগ রয়েছে, কোন নথি প্রয়োজন, কোনটা নয়– সেসব বুঝতেই এখন নাজেহাল আম-জনতা। 

সিএএ-তে নাগরিকত্ব পেতে কী কী প্রয়োজন--- এই ধরনের হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। অমিত শাহ সম্প্রতি বলেছিলেন, আধার কার্ড– ভোটার কার্ড– পাসপোর্ট--- এর কোনোটাই নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। সংসদে দাঁড়িয়ে শাহ বলেছিলেন, সারা দেশে এনআরসি হবে। পরে আবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বললেন, সারা দেশে এনআরসি হবে এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তার রেশ কাটতে না কাটতে একই কথা বললেন শাহ-ও। এখানেই শেষ নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নথি ও সরকারি বক্তব্যের মধ্যে বিভ্রান্তির ছড়াছড়ি। 

শুরুটা হয়েছিল ২০১৫ সাল থেকে। অর্থাৎ, কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার এক বছর পর থেকেই। ২০১৫ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হরিভাই চৌধুরি লোকসভায় বলেছিলেন, প্রতিটি নাগরিকের পরিচয়পত্র যাচাই করে এনআরসি তৈরির জন্য মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে এনপিআর। এরপর ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বার্ষিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, এনআরসি তৈরির প্রথম ধাপ হল এনপিআর। ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই অমিত শাহ বলেন, ডিটেনশন ক্যাম্প হচ্ছে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। কোনও বিদেশি নাগরিকের কাছে পর্যাপ্ত নথি না থাকলে তাঁকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়। কারণ, তাঁকে জেলে রাখা যায় না। ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করে দিলেন, দেশে কোথাও কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প নেই। সব মিথ্যা। উল্লেখ্য, যাঁদের কাঁধে দেশের দায়িত্ব তাঁদের এই ধরনের পরস্পর বিপরীত মন্তব্যে বিভ্রান্ত আম-জনতা। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only