বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

জোটে রাজি, তবে লড়াইয়ের ব্যাটন বামেদের ছাড়তে নারাজ কংগ্রেস একাই শহরের পথে



চিন্ময় ভট্টাচার্য, কলকাতা

বামেদের সঙ্গে জোট চাইলেও, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যাটন হাতছাড়া করতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস। জোটে  নেতৃত্বদানের মানসিকতা থেকে বৃহস্পতিবার তাই প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব বামেদের ছাড়াই পথে নামলেন। ধর্মতলার স্টেটসম্যান হাউসের সামনে থেকে মিছিল করলেন গিরীশ পার্কের রামমন্দির পর্যন্ত। রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোটের অন্যতম কান্ডারি সোমেন মিত্র অবশ্য সেই মিছিলে আসেননি। প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে খবর, সোমেনবাবু দিল্লিতে থাকায় মিছিলে যোগ দিতে পারেননি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে শুধু সোমেনবাবুই নন। এই মিছিল প্রদেশ কংগ্রেসের প্রথমসারির অন্য নেতারাও এড়িয়ে গিয়েছেন। কেবলমাত্র প্রদীপ ভট্টাচার্য এদিন মিছিল শুরুর সময়ে ছিলেন। কিন্তু, তার পর আর তাঁকে দেখা যায়নি। 

প্রদেশ কংগ্রেস সূত্রে খবর, জোটসঙ্গীদের বাদ দিয়ে এদিনের মিছিল হয়েছে। তাই বামেদের এবং রাজ্যবাসীকে বার্তা দিতেই দলের একাকী মিছিল এড়িয়ে গিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রথমসারির নেতারা। তবে, অদূর ভবিষ্যতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে যৌথ কর্মসূচি নেওয়া হবে। সেই কর্মসূচিতে থাকবেন সোমেন মিত্র থেকে আবদুল মান্নানের মতো প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষস্তরের সব নেতাই। তবে, জোট টিকিয়ে রাখতে চাইলেও, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যাটন হাতছাড়া করতে নারাজ প্রদেশ কংগ্রেস। সেই কথা মাথায় রেখে, এদিন বামেদেরকে নিজেদের শক্তি দেখাতে বড় মিছিলের উদ্যোগ নিয়েছিল বিধান ভবন।


মিছিল থেকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে 'কালা কানুন' বলে অভিযোগ করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, 'স্বাধীনতা আন্দোলনে কংগ্রেসই দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। সেই ধারা বজায় রেখে এই কালো আইনের বিরুদ্ধেও কংগ্রেস লড়াইয়ে সামিল হয়েছে, পথে নেমেছে।' শুভঙ্কর সরকার বলেন, 'কংগ্রেস ইংরেজকে ভারতছাড়া করেছিল। কালো আইন প্রত্যাহার করতে ইংরেজদের বাধ্য করেছিল। এবার, মোদি আর শাহদের তৈরি কালো আইন প্রত্যাহার করতেও বাধ্য করবে কংগ্রেস।'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only