সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯

নাগরিকত্ব আইন ও ‘এনআরসি’ বিরোধী ধিক্কার মিছিলে অবরুদ্ধ হল বনগাঁ শহর


এম এ হাকিম, বনগাঁ :  উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সীমান্ত শহর বনগাঁয় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’ ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ‘এনআরসি’ বিরোধী ধিক্কার মিছিল হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আয়োজিত আজ  সোমবার দুপুরের ওই মিছিলকে কেন্দ্র করে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গোটা বনগাঁ শহর। 

এদিনের ওই ধিক্কার মিছিলে বনগাঁ পুর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বনগাঁ মহকুমার বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এদিন মিছিলকারীরা ‘নাগরিক সমাজ দিচ্ছে ডাক, ‘ক্যাব’ নিপাত  যাক’, ‘দেশে বিভাজন সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক শক্তি দূর হটো’, ‘সংবিধান পরিপন্থী ক্যাবের বিরুদ্ধে লড়তে হবে এক সঙ্গে’, ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সমস্ত মানুষ এক হও’ ‘ছাত্র-জনতা দিচ্ছে ডাক, ক্যাব-এনআরসি নিপাত যাক’, ‘দেশে বিভাজন তৈরি কারী ক্যাব মানিছি না-মানব না’ ইত্যাদি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। 

বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান ও বনগাঁ টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শঙ্কর আঢ্য বলেন, ‘কমপক্ষে পঞ্চাশ হাজার মানুষ ‘সিএএ’ এবং ‘এনআরসি’ বিরোধী ধিক্কার মিছিলে অংশগ্রহণ করেছেন। তৃণমূল কর্মী- সমর্থকরা  স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ মিছিল ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছে তাঁরা কোনোভাবেই সংবিধান বিরোধী আইন ও এনআরসিকে মানবে না।’   

বনগাঁর ওই ধিক্কার মিছিলে উপস্থিত সংসদ সদস্যা মালা রায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এনআরসি ও সিএএ-র বিরুদ্ধে জনগণ সচেতন হয়েছেন। তাঁরা এখন বুঝতে পারছেন আদৌ তাঁরা বাংলা ও ভারতে থাকতে পারবে কি না। ‘সিএএ’ নামক যে আইন ওঁরা (বিজেপি) সংখ্যাধিক্যের জোরে পাস করিয়েছে মানুষের তাতে সায় নেই। শুধুমাত্র সংখ্যাধিক্যের জোরে রাতের অন্ধকারেই বলা যায় ওই আইন পাস করানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধে বাংলাসহ গোটা ভারতে ছাত্র-যুব, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমস্ত মানুষ আতঙ্কে ভুগছে। মিছিল ও পদযাত্রার মাধ্যমে আমরা তার প্রতিবাদ জানিয়েছি।’     
    
এদিনের ওই ধিক্কার মিছিলে রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষে বিধানসভার মুখ্য সচেতক, বিধায়ক ও জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সঞ্চালক নির্মল ঘোষ, সংসদ সদস্যা মালা রায় ও বনগাঁর স্থানীয় তৃণমূল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only