বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

হাউজ অফ রিপ্রেডেনটেটিভ-এ অভিশংসিত হলেন ট্রাম্প



পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ইম্পিচ অর্থাৎ অভিশংসিত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে তিনি তৃতীয় রাষ্ট্রপতি, যিনি নিম্নকক্ষে অভিশংসিত হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাগ্য এখন উচ্চকক্ষের হাতে। সেখানে ট্রাম্পকে ইম্পিচ করার প্রস্তাবে ভোটাভুটি হবে। তবে এখনও ডেমোক্র্যাটদের দখলে রয়েছে মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ। 

উচ্চকক্ষে প্রস্তাবটি দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের গদি থেকে আপসারিত করা হবে। তবে উচ্চকক্ষে এটার সম্ভবণা খুব কম। এদিকে নিম্নকক্ষ রিপাবলিকানদের আওতাধীন থাকার জন্য সেখানে ট্রাম্পের ইম্পিচমেন্টের প্রস্তাবটি ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের রেকর্ড ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বেকায়দায় পড়েন ট্রাম্প। সেখানে দেখা যায়, প্রাক্তণ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে রীতিমতো চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। এই রেকর্ডিং-এর ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন। 

এরপর ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদ থেকে ডোনাল্ডা ট্রাম্প থেকে ইম্পিচ করার দাবি ওঠে। তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তদন্ত শুরু করে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ। শুক্রবার পরিষদের হাউজ জুডিশিয়ারি কমিটিতে অভিযোগের ওপর ভোটগ্রহণ করা হলে ২৩-১৭ ভোটে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়।
মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসন করতে যে পরিমাণ ভোট প্রয়োজন, হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে প্রথম দুই অভিযোগের ভোট গণনায় ঐ পরিমাণ ভোট পড়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে কংগ্রেসের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের চেয়ারের অনুমোদন দেওয়ার পর। জানা যায়, পরিষদে ২২৯ জন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, ১৯৭ রিপাবলিক প্রতিনিধি ট্রাম্পের অভিশংসনের বিপক্ষে ভোট দেন।

তার বিরুদ্ধে দু'টি অভিযোগের ক্ষেত্রেই অভিশংসনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পড়েছে প্রতিনিধি পরিষদে। প্রথম অভিযোগের ক্ষেত্রে ২৩০ ভোট পড়েছে অভিশংসনের পক্ষে এবং ১৯৭ ভোট পড়েছে বিপক্ষে। দ্বিতীয় অভিযোগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ২১৬ ভোটের বেশি সংখ্যক ভোট পড়েছে। ঐ অভিযোগে অভিশংসনের পক্ষে পড়েছে ২২৯ ভোট ও বিপক্ষে ১৯৮ ভোট।

এখন উচ্চকক্ষ সিনেটে ট্রাম্পের বিচার হবে। তবে সিনেটে যেহেতু রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত তাই সেখানে এটি পাস হবার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। আগামী জানুয়ারি মাসে সিনেটের বিচার অনুষ্ঠিত হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only