বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বাংলাদেশ যাওয়ার ভিসা পেলেন না কেন?


বাংলাদেশ যাবার জন্য ভিসা পেলেন না মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সভাপতি, রাজ্যের গ্রন্থাগার এবং জনশিক্ষা প্রসার মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি তাঁর স্ত্রী, কন্যা ও দেড় বছরের নাতনিকে নিয়ে ২৬ ডিসেম্বর থেকে পাঁচ-ছ’দিনের জন্য বাংলাদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসার জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন করেন। বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটও তিনি কেটেছিলেন। অনলাইনে যথাযথভাবে ফর্ম পূরণ করার পর চৌধুরির একান্ত সচিব প্রদীপ আগরওয়াল ডেপুটি হাই কমিশন অফিসে যোগাযোগ করে এক আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলেন। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরির জনশিক্ষা দফতরের অফিসকর্মী প্রবীর ঘোষ ভিসার জন্য পাসপোর্ট সহ অনলাইনে জমা দেওয়া ফর্ম নিয়ে মোট তিনবার ভিসা অফিসে যান। কিন্তু প্রতিবারই কোনওর*প সদুত্তর না দিয়ে ডেপুটি হাইকমিশন অফিস তা প্রত্যাখ্যান করেছে। অফিস থেকে হ্যাঁ-ও বলে না, না-ও বলে না, শুধু বলে আমরা দেখছি।

 মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি যেহেতু রাজ্যের মন্ত্রী, স্বভাবতই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি ও দিল্লির কেন্দ্র সরকারের ছাড়পত্র নিতে হয়। নবান্ন ও কেন্দ্র সরকারের ছাড়পত্রও যথারীতি পাওয়া গিয়েছিল। ভিসার আবেদনের সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ছাড়পত্রের প্রতিলিপি সংযুক্ত করা হয়েছিল। এরপরও তাঁরা ভিসা দেননি যা একদম নজিরবিহীন। ভিসা কেন তাঁরা দেননি– তার ব্যাখ্যা বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার তথা বাংলাদেশ সরকার দেয়নি। 

বাংলাদেশে সিলেট সংলগ্ন একটি মাদ্রাসার শতবার্ষিকী সভায় মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি আমন্ত্রিত ছিলেন। এর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর ছোট মামা সিলেটের উপকণ্ঠে বসবাস করতেন যিনি কিছুদিন আগে পরলোকগমন করেছেন। সেখানেও শোকজ্ঞাপন করতে তাঁর সস্ত্রীক যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। ঢাকায় তাঁর খালাতো (মাসতুতো) ভাই ক্যানসার রোগে আক্রান্ত। সেখানেও তাঁর যাওয়ার কথা ছিল। ওখানে  পার্শ্ববর্তী হযরত শাহ জালাল রহ.-এর মাজারেও ফাতেহা পড়ার ইচ্ছা তাঁর ছিল। এই সফরসূচি ভিসার আবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবুও বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার তাঁকে ভিসা দেয়নি। 

বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার কোন কারণে এ কাজ করল, তা জানা যায়নি। এর নেপথ্যে কে আছেন, তা-ও অজানা। ভারতবর্ষের ন্যায় সুমহান গণতান্ত্রিক দেশের একজন নাগরিক তথা জনপ্রিয় মন্ত্রীকে বন্ধু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়া, যুগপৎ দুঃখের ও বেদনার বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি এ ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছেন, কেউ যেন বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার ও দূতাবাসের অন্য কর্মী-আধিকারিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করেন। তাঁরা আমাদের দেশের অতিথি। দূতের সঙ্গে অসদাচরণ আমাদের কালচারের পরিপন্থী। ভালো ব্যবহার করাটা আমাদের রুচি।

তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সিএএ-এনআরসি নিয়ে বাংলায় আন্দোলনের প্রধান মুখ সিদ্দিকুল্লাহ। এই আইন পাস হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে একটা অস্বস্তি অনুভব করা গেছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীও আগে ভারত সফর বাতিল করেছেন।বোধহয় সে কারণে বাংলাদেশ চাইছে না সেখানে বাংলার একজন মন্ত্রী যাক।    

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only