সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯

শান্তিনিকেতনের কলাভবনে নন্দন মেলা



পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক, শান্তিনিকেতন:  বিকেলে শান্তিনিকেতনের কলাভবনে শুরু নন্দন মেলা। মেলা চলবে দুদিন।  তৃতীয় দিন আচার্য নন্দলাল বসুর জন্ম দিন পালন ও বনভোজনের মধ্যদিয়ে সমাপ্তি ঘটে নন্দন মেলার।   দুদিনের এই মেলায় কলাভবনের ছাত্র ছাত্রী সহ অধ্যাপকদের হস্তশিল্প প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন ছাড়াও বহু দেশ বিদেশের পর্যটকেরা এই মেলায় আসেন। মেলার আয় থেকে দুঃস্থ ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কলাভবনের ছাত্র ছাত্রী কল্যাণ তহবিলে রাখা হয়।

বিশ্বভারতী সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে এই মেলার প্রবর্তন হয়। কলাভবনের অধ্যাপক দিনকর কৌশিকের নেতৃত্বে ছাত্র ছাত্রীরা এই মেলার প্রবর্তন করেন। দিনকর ১৯৭০ সালে কলাভবনকে নতুন রূপ দেন। ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত অধ্যক্ষ হিসেবে তিনিই নন্দন মেলার আয়োজনের প্রধান ভূমিকা নেন। বছর তিনেক আগে তিনি প্রয়াত হন। ১৯৭৩ সালে বীরেণ বোরা নামে কলা ভবনের এক ছাত্র দূর্ঘটনার শিকার হয়। তখন ছাত্র ও শিক্ষক মিলে দুঃস্থ ছাত্রদের কথা ভেবে তাদের সৃষ্ট শিল্প দ্রব্য বিক্রির জন্য একটি মেলার কথা ভাবেন। সেই সময় কলাভবনের অধ্যাপক দিনকর কৌশিকের নেতৃত্বে ছাত্র ছাত্রীরা এই মেলা শুরু করেন। 

বিশিষ্ট শিল্পী নন্দ লাল বসুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হয়ে আসছে এই নন্দন মেলা। বৈতালিকের মাধ্যমে শুরু হয় মেলা। শিল্পী নন্দ লাল বসুর জন্ম তারিখ ৩ ডিসেম্বর। সেদিন কলাভবন থেকে  ছেলে মেয়েরা মেয়েরা বৈতালিকের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। কলাভবনের ছেলে মেয়েরা মোমবাতি জ্বালিয়ে শোভা যাত্রা করে নন্দন সদনের সামনে নিজস্ব বাড়িতে গিয়ে আচার্য্যের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়।  বনভোজনের মাধ্যমে এই মেলার সমাপ্তি ঘোষণা হয়। এই বার্ষিক মেলার উদ্দ্যোক্তা কলা ভবন। প্রথম দিকে এই মেলায় শুধুমাত্র  কলাভবনের ছাত্র ছাত্রীরা অংশ গ্রহণ করলেও, এখন সমস্ত ভবনের  ছাত্র ছাত্রীদের অঙ্কন সামগ্রী এবং অন্যান্য শিল্প দ্রব্য বিক্রি হয়। এই মেলার আয় থেকে দুঃস্থ ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ব্যয় করা হয়। বহু বিদেশীদের আগম ঘটে কলা ভবনের ছাত্র ছাত্রীদের শিল্প কর্ম কিনতে। 

রবিবার বিকেলে পাটভবনের পড়ুয়ারা শিক্ষকদের সঙ্গে  মেলা প্রাঙ্গণে আসেন। তারপর বিভিন্ন ভবনের পড়ুয়ারা আসে। এভাবে আনাগোনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মেলা। গতবার শুরু হয়েছিল কলাভবনের শতবর্ষ। এবার সেই শতবর্ষের সমাপ্তি ঘটছে এই নন্দন মেলার মধ্য দিয়ে। তবে  তার জন্য বিশেষ কিছু হচ্ছে না। যেমন প্রতিবছর হয়ে থাকে, তেমনি হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এব্যাপারে কলাভবনে অধ্যক্ষ সঞ্জয় মল্লিককে  ফোন করা হয়, যদিও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায় নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only