সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

অসাংবিধানিক নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে সরব বিভিন্ন গণসংগঠন ও সমাজকর্মীরা


 পুবের কলম প্রতিবেদক: দেশের সাংবিধানিক সাম্যের নীতিকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা ক্যাব পাশ করতে চলেছে। বৈষম্যমূলক এই বিলটি বিভাজন ও জাতিগত বিভেদ তৈরির রাস্তাকে সহজ করবে। তাই যে কোনো প্রাকারেই হোক, তা রুখতেই হবে। সোমবার এমন আহ্বান জানান বিভিন্ন গণসংগঠন ও সমাজকর্মীরা। এদিন বিকেলে কলকাতা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন তাঁরা। ওই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামাআতে ইসলামী হিন্দের রাজ্যসভাপতি মাওলানা আব্দুর রফিক, কবি প্রসূন ভৌমিক, সমাজকর্মী আব্দুল আজিজ, মাওলানা হাসান মেহদী, মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য মাওলানা আবু তালিব রহমানী, মানবাধিকার কর্মী আব্দুস সামাদ, এসআইও-র প্রতিনিধি ওসমান গণি প্রমুখ।

এ দিন মাওলানা আব্দুর রফিক বলেন, দেশের সংবিধান সকল সম্প্রদায়কে সমানভাবে দেখে, কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে বৈষম্যকরা হয়েছে তাই আমরা এর বিরোধীতা করছি। দেশের সরকার বিভেদ সৃষ্টিকারী বিল পাস বা এনআরসির পেছনে টাকা খরচ না করে জনকল্যাণমূলক খাতে নজর দিক। সরকার এমনটা করলে দেশের মঙ্গল হবে। রাজ্যসভায় বিলটি যেন না পাস হয় তার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মাওলানা আব্দুর রফিক আরও জানান, সংবিধান বিশেজ্ঞদের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা চলছে, প্রয়োজনে আদালতে মামলা করার কথা বিবেচনা করব। এ দিন কবি প্রসূন ভৌমিকও বিলের উদ্দ্যেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, যদি নাগরিকত্ব দিতেই হয় তবে সকলের জন্য একই নিয়ম করা হচ্ছে না কেন? সমাজকর্মী আব্দুল আজিজ ও মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের সদস্য মাওলানা আবু তালিব রহমানীও বিলের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, দেশের হিন্দু-মুসলিম কেউই আলাদা করে বিপদে নেই, আসলে পুরো দেশটাই বিপদে রয়েছে। একইভাবে ওসমান গণি ও শিয়া আলেম মাওলানা হাসান মেহদী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধীতা করেন। ওসমান গণির কথায়, আমরা প্রথম থেকেই এনআরসি ও ক্যাব-এর বিরোধী। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও যেতে হলে যাব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only