বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

নিষ্প্রাণ হৃদপিণ্ডে প্রাণ ফেরালেন চিকিৎসকরা! (ভিডিয়ো)




পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক, নিউইর্ক: চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী ঘটনা ঘটিয়ে ফেললেন আমেরিকার নর্থ ক্যারলিনার ডিউক ইউনির্ভাসিটির শল্যচিকিৎসকরাএকটি নিষ্প্রাণ হৃদপিণ্ডে প্রাণ ফিরিয়ে এনে, সেই হৃদপিণ্ডটিকে একজন মুমূর্ষু রোগীর শরীরের সফলভাবে প্রতিস্থাপন করেছেন তারা। রোগীটি সুস্থ রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এই অলৌকিক ঘটনা নিয়ে চিকিৎসামহলে ইতিমধ্যেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে। এতদিন, শুধুমাত্র ব্রেন ডেথ হওয়া রোগীদেরই হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনযোগ্য বলে মনে করা হত।কিন্তু এই যুগান্তকারী ঘটনার কারণে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে গেলেও সেটিকে ব্যবহারযোগ্য করে তুলে, রোগীদের দেশে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে।

এই ঐতিহাসিক গবেষণা করতে গিয়ে ডিউক ইউনির্ভটিসির শল্য চিকিৎসকরা এক প্রাপ্তবয়স্ক মৃত দাতার হৃদপিণ্ড সংগ্রহ করেনতারা বলছেন, ওই দাতার দেহ থেকে যখন তারা হৃদপিণ্ডটি সংগ্রহ করে ছিলেন, সেই সময় তাঁর শরীরে রক্ত চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর একাধিক অগ্রণী কৌশল ব্যবহার করে সেই নিষ্প্রাণ হৃদপিণ্ডে রক্তসঞ্চালন কারানোর ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন চিকিৎসকরাইতিমধ্যে, চিকিৎসক দলের এক সদস্য পুরো ঘটনার একটি ভিডিয়ো সোস্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেছেন। এরপর এক রোগীর দেহে সেটিকে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই পুরো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি বিষয় প্রমাণিত যে, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার পর বেশকিছুক্ষণই অঙ্গগুলি প্রতিস্থাপন করানো সম্ভব হয়, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার দিশা পেল চিকিৎসাশাস্ত্র। সময় পেরিয়ে যাওয়া পরও শরীরের বাইরে অঙ্গগুলিকে পুনরুজ্জীবত করে তুলে এটিকে পুর্ণব্যবহার যোগ্য করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য ১৯৬৭ সালে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়। এর এক বছর বাদে স্টেনফোর্ড ইউনির্ভারসিটির চিকিৎসকার আমেরিকায় প্রথম এই হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন করেন। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় ৩,৪০০ বেশি হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন হয়েছে।হৃদযন্ত্রের মত যকৃত, ফুসফুস, কিডনি প্রতিস্থাপনও একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা দুনিয়া। প্রতি বছর ৪৫ শতাংশ মার্কিনি অঙ্গ দানকারী হিসাবে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করে। কিন্তু তা সত্বেও বহু রোগী অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষা করতে করতে মারা যান। আবার অনেক সময় সময় অতিক্রম হয়ে যাওয়া জন্য দান করা অঙ্গগুলি নষ্ট হয়ে যায়।

প্রায় ১ লক্ষ মানুষ আমেরিকায় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রতীক্ষারত। রিপোর্ট বলছে,  প্রতিস্থাপনের জন্য অপেক্ষারত ২০জন গ্রাহীতা প্রতিদিন দেশটিতে মারা যায়। এই  সমস্ত ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প পথের সন্ধান চালিয়ে গিয়েছেন চিকিৎসরা। অবশেষে তাদের ঝুলিতে সাফল্য এসেছে। বর্তমানে হেপাটাইটিস-সি আক্রান্ত রোগীর অঙ্গ কিভাবে প্রতিস্থাপিত করা যায়, সেটার অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন,হৃদস্পন্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে হৃদপিণ্ড গঠনকারী টিস্যু অর্থাৎ কলাগুলি মরতে শুরু করে। অক্সিজেন কম সরবরাহ হওয়ায় এই ঘটনা ঘটে। তাতে দেহের সমস্ত অঙ্গের কার্যকারীতা থেমে যায়। তাই এতদিন ব্রেন ডেথ হওয়া রোগীদেরই অঙ্গ প্রতিস্থাপন করার নীতি ছিল।

প্রতিস্থাপনযোগ্য হৃদপিণ্ড অক্ষত রাখতে খুব শীতল তাপমাত্রার মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়। শরীরে বাইরে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টাই হৃদপিণ্ড কার্যকর থাকে। কিন্তু এই যুগান্তাকারী আবিষ্কারের মাধ্যমে হৃদপিণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। হৃদস্পন্দ বন্ধ হয়ে যাওয়া মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে হৃদপিণ্ড বার করে কৃত্রিম উপায়ে সেটির মধ্যে টিবের মাধ্যমে রক্তসঞ্চালন, অক্সিজেন এবং ইলেক্ট্রোলাইটস্ সঞ্চালন করিয়ে নিষ্প্রাণ হৃদপিণ্ডে প্রাণ ফেরানো সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only