শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

উত্তরপ্রদেশের পুলিশ মুসলিমদের টার্গেট করছে বলে অভিযোগ


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক : উত্তর প্রদেশে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ‘সিএএ’ ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ‘এনআরসি’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গুঁড়িয়ে দিতে রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন মুসলিমদের টার্গেট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ৭০টি মানবাধিকার ও সমাজ সংগঠনের মঞ্চ ‘হম ভারতকে লোগ’-এর রিপোর্ট প্রকাশ করে তাঁদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ব্যক্তিগত নির্দেশ, অনুমোদন ও নজরদারিতে পুলিশ মুসলিম, বিক্ষোভকারী, সমাজকর্মীদের টার্গেট করছে।গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকর্মীরা ওই মন্তব্য করেন। এব্যাপারে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন, বলিউডের দুই শিল্পী স্বরা ভাস্কর ও জিশান আয়ুব। স্বরা ভাস্কর বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি আমাদের ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মুজফ্ফরনগরের মতো জেলায় সাধারণ মুসলিম, তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপরে হামলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ফিল্মি গল্পের মতো ‘বদলা’র কথা বলছেন। এব্যাপারে স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত হোক।’
সমাজকর্মী কবিতা কৃষ্ণন বলেন, ‘মীরাটে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের গুলিতে যারা মারা গিয়েছে তারা হলেন শ্রমিক। কেউ কেউ নিজের কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আবার কেউ নামাজ থেকে ফিরছিলেন। কেউই এই ধরনার অংশ ছিল না। কিন্তু পুলিশ যেভাবে মুসলিমদের হত্যার উদ্দেশ্যে  গুলি চালিয়েছে তা অত্যন্ত স্পষ্ট।’ তিনি এটিকে উত্তর প্রদেশ পুলিশের সন্ত্রাস বলে অভিহিত করে বলেন, ‘এমনকি নিহত মুসলিমদের লাশগুলোকেও  তাদের স্ত্রী বা মায়েদের দেখতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ তাদের অন্যত্র কবর দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে। নিহতদের পরিবারকে ময়না তদন্তের রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না।পুলিশ যোগী সরকারের কাছ থেকে পুরষ্কার পাওয়ার জন্য পারস্পরিক প্রতিযোগিতা করছে।'
সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘উনি তো প্রকাশ্যে ‘বদলা’র কথা ঘোষণা করেছেন। উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে। দুঃখের কথা হল, প্রধানমন্ত্রী খোলাখুলি এই নৃশংসতাকে সমর্থন জানিয়েছেন!’
সরকারি সূত্রে প্রকাশ, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে সিএএ-এনআরসি’র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরুর পরে রাজ্যে এপর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় ২৮৮ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ ৩২৭টি এফআইআর দায়ের  সহ ১ হাজার ১১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। আটক করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৮ জনকে।
সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, হর্ষ মন্দার, কবিতা কৃষ্ণণ ও নাদিম খান-এর তথ্যানুসন্ধানী দল উত্তরপ্রদেশের ৯টি জেলা ঘুরে এসে দাবি করছে, শুধু ওই ন’টি জেলাতেই ৬১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময়ে উত্তর প্রদেশ পুলিশ বিজনৌর থেকে একুশ জন নাবালককে বন্দি করে। এর মধ্যে পাঁচ নাবালকের অভিযোগ, বিক্ষোভে শামিল না হওয়া সত্ত্বেও শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের ধরে থানায় আটক করে বেধড়ক মারধর, জোর করে নগ্ন করে দেওয়া থেকে  শুরু করে অকথ্য অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোরই উত্তরপ্রদেশের নাগিনা শহরের বাসিন্দা। এরা সকলেই মুসলিম। বিজনৌরে বিক্ষোভ মিছিলের সময় বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করার পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ ধরপাকড় চালিয়ে ২১ জন নাবালকসহ মোট ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছিল।
সমাজকর্মীদের দাবি, রাজ্য দ্বারা প্রযোজিত সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে, নিরপরাধদের মুক্তি দিতে হবে এবং এক লাখ অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিল করতে হবে, সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার স্বাধীন আইনি তদন্ত করতে হবে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি আমলে নিক, তদন্তের পরে দোষী পুলিশ সদস্যদের সাসপেন্ড করতে হবে, যারা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দিতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস  দিন যে দেশে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি কার্যকর হবে না বলেও সমাজকর্মীরা দাবি জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only