সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯

নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবিতে ঠাকুরনগরে মতুয়া মহাসঙ্ঘের মহামিছিল

 এম এ হাকিম, বনগাঁ :  উত্তর ২৪ পরগণা জেলার ঠাকুরনগরে নিঃশর্ত  নাগরিকত্বের দাবিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মহামিছিল করা হয়েছে। আজ সোমবার সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের আহ্বানে কয়েক হাজার মতুয়া ভক্ত, সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল সমর্থকরা ওই মিছিলে শামিল হন। তাঁরা এসময় কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ‘এনআরসি’, জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন বা ‘এনপিআর’ –এর বিরোধিতায় সোচ্চার হন। 

সারা ভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি ও সাবেক এমপি মমতা ঠাকুর ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার যে সংশোধিত  নাগরিকত্ব আইন করেছে, তার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। বিগত ১৬ বছর ধরে আমাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ করে রেখেছিল। ওপার বাংলার মানুষ বিশেষ করে যারা মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁদের আজকে ‘আবেদন করে নাগরিকত্ব’ নিতে হবে। তার বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন। আমাদের ‘নিঃশর্ত নাগরিকত্ব’ দিতে হবে। 

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যে ব্যবস্থা ছিল তাও বাতিল করে এখন আমাদের শরণার্থীর ঘোষণা করে ‘শর্তসাপেক্ষ নাগরিকত্ব’ দেওয়ার কথা বলছে। কিন্তু আমরা নিঃশর্ত নাগরিকত্ব চাই। এজন্য আমরা একনাগাড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়া হবে। নাগরিকত্ব ও এনআরসি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও বিজেপি’র অন্য নেতারা এক এক রকম মন্তব্য করছেন।’   

মমতা ঠাকুর বলেন, ‘বিজেপি নেতারা দাবি করলেও ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন’ (সিএএ) মোটেও নিঃশর্ত  নয়। যদি তা হতো তাহলে আইনে বলা হতো ২০১৪ সালে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যারা এদেশে এসেছেন তাঁরা সকলেই নাগরিক। ২০০৩ সাল থেকে আমরা নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দীর্ঘ ১৬ বছর বাদে এখন আমাদের ‘শরণার্থী’ গণ্য করে আবেদনের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের কথা বলা হচ্ছে। 

আমরা এতদিন ভোট দিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার নির্বাচিত করেছি। এখন কেন নতুন করে নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে হবে?’  
এনিয়ে খুব শিগগিরি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে ধর্না-অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি ও সাবেক এমপি মমতা ঠাকুর জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only