শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

মমতার আশ্বাসে উজ্জীবিত লাখো জনতা


আহমদ হাসান ইমরান
কলকাতা, ২১ ডিসেম্বর: আমার জীবনের একটি সেরা বক্তৃতা শুনলাম শুক্রবার পার্ক সার্কাস ময়দানে। দেশজুড়ে আজ যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কিংবা সহিংস বিক্ষোভ এবং পুলিশের বর্বরতা চলছে, তাতে সমগ্র ভারত অশান্ত হয়ে উঠেছে। সেই অশান্তির মূল কারণ, বিভাজনমুখী ক্যাব/সিএএ, এনআরসি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পুলিশের নৃশংসতা। এই দুই বেআইনি পদক্ষেপকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার পার্ক সার্কাস ময়দানে একজন প্রকৃত দেশনেত্রীর ভূমিকা নিয়েছেন।

আশঙ্কিত সকল নাগরিককে তিনি বরাভয় দিয়েছেন, চিন্তা করবেন না। আমরা সকলে মিলে ক্যাব/সিএএ এবং এনআরসি রুখব।

শুক্রবার শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই উজ্জীবিত ছিলেন তা নয়, সেইসঙ্গে এক লাখেরও বেশি উপস্থিত জনতাকে তিনি উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছেন। মনে হচ্ছিল, এই বিশাল জনতা তাঁর কাছ থেকে যেন সঞ্জীবনী বার্তা লাভ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যেকটি বাক্যের পর হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টান সমন্বিত লাখো জনতা প্রবল গর্জনে তাঁকে সমর্থন করেছেন। প্রকৃত রাষ্ট্রনেতারা বোধহয় এভাবেই মানুষকে উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের পথে উজ্জীবিত করতে পারেন।
আজ পার্ক সার্কাস হয়ে উঠেছিল মিনি ভারত। বাংলাভাষী, হিন্দিভাষী, শিখ, নেপালি সকলেই হাজির মমতার বক্তব্য শোনার জন্য।

শুক্রবারের জুম্মার নামায আদায় করে অধিকাংশ লোকই সোজা মসজিদ থেকে চলে এসেছিলেন ময়দানে। উদ্দেশ্য, তাঁরা দিদির বক্তৃতা শোনার পরই ঘরমুখো হবেন। সেইসঙ্গে দূর-দূরান্তের বহু মানুষের অফুরন্ত অংশগ্রহণে তিলধারণের জায়গা ছিল না কলকাতার অন্যতম এই বড় ময়দানটিতে।

উল্লেখ্য, ময়দানে শুধু তৃণমূলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরাই ছিলেন না, হাজির ছিলেন এমন অসংখ্য মানুষ, যাঁরা অন্য দল করেন কিংবা ভোট দিলেও কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যুক্ত নন। তাঁরা সবাই এসেছিলেন একটি কথা শুনতে ক্যাব/সিএএ ও এনআরসি-র জোড়া থাবা থেকে কী করে সাধারণ মানুষ রক্ষা পাবে? কী করে সংবিধান অনুযায়ী সকলেই সমান নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে সেই মুক্তিবাণী শোনার জন্য।

দিদি তাদের নিরাশ করেননি। দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ‘ক্যাব-এনআরসি ওয়াপস লো’। তিনি প্রশ্ন করেছেন, যারা এই ধরনের বৈষম্যমূলক আইন তৈরি করে বিভাজন করতে চাইছে, কোটি কোটি সাধারণ দরিদ্র মানুষকে হয়রানির মুখে ফেলছে, তারা কারা? তাদের নিজেদেরই কি জন্মের শংসাপত্র আছে? আর বিজেপিকে ভারতীয়দের নাগরিকত্বের পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব কে দিয়েছে? তাই তিনি বলেছেন, এই দেশ শুধুমাত্র বিজেপির নয়, এই দেশ সব মানুষের, সব ভারতীয়র। এই আন্দোলনের নামকরণ তিনি করেছেন, ‘সিটিজেন্স মুভমেন্ট’। আমরা সকলেই সিটিজেন, আমরা সকলেই নাগরিক।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য কথা বলেছেন, তিনি চান এই আন্দোলনে সংখ্যালঘুদের নিয়ে নেতৃত্ব দিক সংখ্যাগুরুরা, যাতে অশুভ শক্তি বিভাজন তৈরি করতে না পারে, যাতে সংখ্যালঘুরাই যেন একমাত্র নিশানা না হয়ে পড়ে।

তার আগে তৃণমূল ভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ১ জানুয়ারি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস, জন্মদিন। এবারের প্রতিষ্ঠা দিবসকে ‘নাগরিক অধিকার দিবস’ হিসাবে পালনের ডাক দিয়েছেন তিনি। সব শেষে ভারতীয়দের মহামিলনের বার্তা দিয়ে তিনি আবারও বলেন, ‘ক্যাব-এনআরসি ওয়াপস লো’। সমবেত জনতা প্রবল গর্জনে মমতার সুরে সুর মেলান, ‘ক্যাব, এনআরসি ওয়াপস লো, ওয়াপস লো, ওয়াপস লো’। 

আজকের মঞ্চে সর্বধর্মের প্রতিনিধিদের ডেকে ‘ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে’র বার্তাকে পার্ক সার্কাসের ময়দানে ফের বাস্তবায়িত করে দেখালেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এক বুক আশা নিয়ে জনতা শান্তিপূর্ণভাবে ঘরের পথ ধরলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only