বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

স্বপ্নের সিঁড়ি ধরে সুরাইয়া অভিনীত 'দ্য সাইলেন্ট ভয়েস-এর জাতীয় স্তরের পুরস্কার


শুভায়ুর রহমান 

উত্তরের শহরে সেই ছোট্ট মেয়েটি একটু অভিনয় কিংবা নাচে খুশি হয়ে যেতো। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি চলতো অভিনয়। স্বপ্ন দেখা শুরু। সকলেই যেমন দেখেন একদিন বড় কিছু হবেন। ঠিক তেমনি কোচবিহারের দক্ষিণ খাগড়াবাড়িতে বেড়ে ওঠা মেয়েটির মধ্যেও ছিল জমানো ইচ্ছে। একটু একটু করে ইচ্ছে, ভাবনা জমে জমে বড় হওয়ার তাগিদ জমাট বেঁধে গিয়েছে। 


এরই মধ্যে শিখে নিয়েছে ভরতনাট্যম, কত্থকনৃত্য। প্রাথমিক জীবন শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে স্কুল শিক্ষিকা হিসাবে। পরে মোড় ঘুরে যায়। সেই সুপ্ত স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে জাতীয় মঞ্চে। তার অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমায় পেল জাতীয় পুরস্কার। ৩০ নভেম্বর দিল্লির আম্বেদকর ইন্টান্যাশনাল সেন্টারে শর্ট ফিল্ম ' দ্য সাইলেন্ট ভয়েস' দেখানো হয়। দক্ষিণ ভারতের পরিচালক আনসুল সিনহা পরিচালিত এই শর্ট ফিল্মটি পরিবেশ ভাবনার উপর নির্মিত হয়েছে। ২০১৮ সালে শর্ট ফিল্মটি বানানো হলেও এ বছর দেখানো হয়। প্রতিবছরের মতো এবছরও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রকের তরফে প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করা হয়। আর সেখানেই জাতীয় পুরস্কার লাভ বলে জানান সুরাইয়া পারভীন। শর্ট ফিল্ম ' দ্য সাইলেন্ট ভয়েস'- এ মূখ্য চরিত্র শিক্ষিকার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কোচবিহারের দক্ষিণ খাগড়াবাড়ির বাসিন্দা শহিদুল রহমান ও মেনকা পারভীনের মেয়ে সুরাইয়া পারভীন। পরিবারের দুই মেয়ের মধ্যে সুরাইয়া বড়। কোচবিহার থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ। শিলিগুড়ির সূর্যসেন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করার পর বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ করেন বলে জানান সুরাইয়া পারভীন। 


উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে দক্ষিণ ভারত পাড়ি জমানো। তারপর জাতীয় মঞ্চে অভিনয়ের প্রশংসা এই দীর্ঘ পথটা কেমন ছিল? পুবের কলমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুরাইয়া পারভীন বলেন, স্কুলে অনেক প্রোগ্রাম করেছি। থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম ছোট থেকেই। রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের সঙ্গে কাজ করেছি। ২০১১ সালে গ্র‍্যাজুয়েট হওয়ার পর কার্শিয়াংয়ে একটা সরকারি স্কুলে তিন বছর পড়িয়েছি। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ করেছি। ভালো লাগে অভিনয় করতে, তবে এতবড় পাওনা আশা করিনি৷ এটাও বড় স্বপ্ন। পারিবারিকভাবে অভিনয় পেশায় কেউ ছিলেন না। শুধুমাত্র মায়ের প্রচেষ্টা ছিল। এরপর হায়দ্রাবাদে চলে আসি। হায়দ্রাবাদে থিয়েটারে যুক্ত হই। বেশ কিছু দক্ষিণ ভারতের শর্ট ফিল্মে অভিনয় করেছি। ২০১৭ সালে 'সন্ধ্যা নামে যখন ' নামে একটি শর্ট ফিল্ম কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়। এখন দক্ষিণ ভারতের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি আপাতত। বড় প্রজেক্টে কাজ করার ইচ্ছে রয়েছে বলে জানান সুরাইয়া পারভীন। 


তিনি জানিয়েছেন, হায়দ্রাবাদে বসেই কোচবিহার থেকে প্রচুর শুভেচ্ছা পাচ্ছি। বাড়ি, আত্মীয়স্বজন থেকে ভালোবাসা পাচ্ছি। খুবই ভালো লাগছে।' উত্তরবঙ্গ থেকে অভিনয়ের টানে হায়দ্রাবাদে পাড়ি দিয়ে নতুন স্বপ্নে মেলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। নতুনভাবে প্রতিভাকে চিনিয়ে দিতে এগিয়ে যেতে চান তিনি। ভাবনারা মনে উঁকি দিলে তাকে আপন করে নিতে শুরু হয়েছে সুরাইয়ার অভিনয় অধ্যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only