শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

মুসলিমদের জন্য শুধু দু’টি জায়গা রয়েছে, পাকিস্তান অথবা কবরস্থানঃ ইউপি পুলিশ

মুজাফফর নগেরর বাড়িতে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে গিয়ে এইভাবেই ভেঙে পড়েছেন হাজি হামিদ হাসান

ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বর্বরতার এক মর্মন্তুদ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। পুবের কলম পাঠকদের জন্য তা এখানে উদ্ধৃত করা হল।

ইমরান আহমেদ সিদ্দিকি: উত্তরপ্রদেশের মুজাফ্ফরনগর শহর। শুক্রবার রাত তখন ১১টা। ৭২ বছরের হাজী হামিদ হাসান কাঠের কারবারি। প্রায় ৩০ জন সশস্ত্র পুলিশ আধিকারিক তাঁর দোতলা বাড়িতে দরজা ভেঙে ঢুকে পড়লেন। তারপর শুরু করলেন ব্যাপক তাণ্ডব। আর এই পুলিশ অফিসারদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছিলেন সাধারণ পোশাকে।

দ্য টেলিগ্রাফের একজন রিপোর্টারের কাছে হাসান অভিযোগ করলেন, তাঁকে রাইফেলের বাট দিয়ে পেটাতে থাকে। তিনি প্রতিবাদ করলে তাঁকে এবার লাঠি দিয়ে নির্যাতন করা হতে থাকে। এখানেই শেষ নয়। পুলিশ অফিসাররা পুরো বাড়িটিতে ভাঙচুর চালায়। বাথরুমের ফিটিংস, ফার্নিচার, ওয়াশিংমেশিন, বিছানাপত্র, ফ্রিজ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র তারা ভেঙে ফেলে। আমি কেঁদে তাদের কাছে করুণা করার জন্য অনুনয় করলাম। কিন্তু তারা ছিল খুবই বর্বর। এই পুলিশবাহিনী আমাকে বলে, ভারতের মুসলিমদের জন্য শুধুমাত্র দু’টি জায়গাই রয়েছে, তা হল পাকিস্তান এবং অন্যটি কবরস্থান।

তিনি এই নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন এবং সেইসঙ্গে তাঁর ঘরের ভিতর যে ভাঙচুর ও তাণ্ডব চলেছে, তা দেখাচ্ছিলেন। তাঁর পায়ে ছিল বড় ধরনের আঘাত। হাসান বলেন, পুলিশবাহিনীর এই তাণ্ডব চলে অন্ততপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। ঘরের ভিতর ধ্বংসকাজ শেষ করে তারা বন্দুক উঁচিয়ে ঘরের গয়না ও অন্যান্য অলংকার এবং আলমারিতে রাখা ৫ লক্ষ টাকা লুঠ করে। আমি সম্প্রতি এই অলংকার কিনেছিলাম আমার দুই নাতনির বিয়ের জন্য।

বর্ষীয়ান হাসান সাহেবের স্ত্রী ফাতেমা এবং তাঁদের দুই নাতনি রোকাইয়া ও মুবাশ্বিরা সেইসময় একটি কামরায় লুকিয়ে পড়েছিলেন। আর হামলার ভয়ে প্রতি মুহূর্তেই তাঁদের হৃদপিণ্ড ধুক-ধুক করছিল। এই পুলিশবাহিনী মহিলাদের যথেচ্ছ অশ্লীল গালিগালাজ করছিল। এবং হাসানের পুত্র মুহাম্মদ শাহিদকে মারধরের পর গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। 

চোখে পানি নিয়ে এসব কথা বলছিলেন ৭০ বছরের হাজী হামিদ হাসান সাহেব। তাঁর ছেলে শাহিদ এখনও পুলিশের হেফাজতেই রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দাঙ্গা করার চার্জ দেওয়া হয়েছে। আমি তাঁকে দেখতে গিয়েছিলাম। সে আমাকে জানায়, পুলিশরা তাকে একটি বন্দুক হাতে নিতে বলে এবং সেই অবস্থায় তার ছবি তোলে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only