সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯

বিকৃত ভঙ্গিমায় রবীন্দ্রসঙ্গীতের তালে উত্তাল নাচ নন্দনমেলায় ! (ভিড়িয়ো)


পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক, শান্তি নিকেতন: কলাভবনের নন্দনমেলায় বিকৃত ভঙ্গিমায় রবীন্দ্র সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন সোশাল নেটওয়ার্ক সাইটে আপলোড হওয়ার পর নিন্দার ঝড় ওঠে।অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়ারা গুরুদেবের আশ্রম সম্পর্কে কতটুকু অনুভূতি প্রবণ? 

এই একই গান রোদ্দুর রায় নামে এক ব্যক্তি বিকৃত ভাবে গেয়ে তাঁর বিকৃত মনস্কতার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে নিন্দিত হয়েছেন। গুরুদেবের আশ্রম থেকে সেই চেষ্টা হয়, তাহলে রোদ্দুর রায়দের দোষ কোথায়? প্রশ্ন উঠেছে। যখন দেবালয় পোড়ে, তখন নগরের দোষ কোথায়? আক্ষেপ করেন এক প্রবীণ আশ্রমিক! 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা "চাঁদ উঠেছিল গগনে'' গানটি মেলা চত্বরে বিকৃত করে গাইতে দেখা যায় পড়ুয়াদের। বিশ্বভারতীর কলাভবনের অধ্যক্ষ তথা প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর জন্মদিন ৩ ডিসেম্বর ৷ তাঁর জন্মদিনকে স্মরণ করতে প্রতি বছরের মতো পয়লা ডিসেম্বর থেকে কলাভবনে শুরু হয় নন্দনমেলা । এই মেলায় পড়ুয়ারা নিজের হাতের তৈরি শিল্প সামগ্রী নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেন ।মেলার প্রথম দিনে ঐতিহ্যবাহী কলাভবন চত্বরে বেসুরে রবীন্দ্রসংগীতকে বিকৃত করে গাইতে দেখা যায়।
   
বিশ্বভারতীর ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যর্থ পড়ুয়া সহ কর্তৃপক্ষ, বলেও নিন্দা করছেন রবীন্দ্র অনুরাগীরা ৷ এপ্রসঙ্গে সঙ্গীত ভবনের অধ্যক্ষ নিখিলেশ চৌধুরি অবশ্য কিছু বলতে চাননি। তবে তিনি শুনেছেন । যেহেতু নিজে দেখেননি তাই কোন মন্তব্য করতে চান নি।  কলাভবনের অধ্যক্ষ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, আমি এব্যাপারে কিছু জানি না।তাই মন্তব্য করব না। 


বিশ্ব ভারতীর জন সংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকার বলেন, এব্যাপারে কোন অভিযোগ পাই নি, পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

 বিশ্ব ভারতীর প্রবীণ আশ্রমিক কালীপদ সিংহ রায় বলেন, খুব দুঃখজনক। রবীন্দ্রনাথের কথায় রবীন্দ্র সঙ্গীত মন্ত্রের মতো পবিত্র। এখন কার পড়ুয়াদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়ে কোন অনুভূতি নেই। পড়তে আসে, পড়ে এই মাত্র। 

শান্তিদেব ঘোষের কথামত,  "কেটেছে একেলা বিরহের বেলা" অর্জুন ও চিত্রাঙ্গদার যুগ্মনৃত্যের  গানটি রচিত হয় "সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে" গানটির ছন্দ লক্ষ্য করে। "চিত্রাঙ্গদা" রচিত হবার কয়েক বৎসর পূর্বে "সেদিন দুজনে" গানের সঙ্গে একটি যুগ্মনৃত্য রচনা করা হয়। গানের সঙ্গে নাচটি বেশ মানিয়েছিল। এই নাচটি "চিত্রাঙ্গদা"য় রাখবার যখন প্রস্তাব এলো, তখন গুরুদেব "চিত্রাঙ্গদা"র সঙ্গে কথা মিলিয়ে একই ছন্দে গানটি লিখলেন।

 সম্ভবত ৬৬ বছর বয়সে গুরুদেব গানটি রচনা করেন। এখন কার ছাত্রদের এই ইতিহাস জানা উচিৎ। একসময় শঙ্খ ঘোষ  বলেন,     পূজা পর্যায়ের মতো প্রেমের গানেও আছে উপরস্তরের প্রেম, যখন আমরা শুনি ' সেদিন দুজনে দুলেছিনু বনে ' বা ' যৌবনসরসীনীরে ' বা এমন-কী ' কেটেছে একেলা বিরহের বেলা 'র মতো গানগুলি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only