শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯

তাহলে কি পিছু হঠছে কেন্দ্র, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ট্যুইট ঘিরে বিতর্ক

পুবের কলম, নয়াদিল্লি: যেভাবে দেশজুড়ে নাগরিক সংশোধনী আইনের প্রতিবাদ হচ্ছে, তাতে সুর নরম করল কেন্দ্র। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের একাধিক ট্যুইট সে কথাই প্রমাণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, অশিক্ষিত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব প্রমাণে কোনও কাগজপত্র লাগবে না। তাদের পরিচিত কিংবা তাঁদের সম্প্রদায়ের কেউ সাক্ষী দিলেই হবে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, কোনও ভারতীয় নাগরিককে অযথা নিগ্রহ করা হবে না। ১৯৭১-এর পূর্বে জন্ম এমন কারও বাবার কিংবা দাদুর জন্ম সার্টিফিকেট চাওয়া হবে না। কোনও পুরাতন নথিপত্র চেয়ে কাউকে বিব্রত করা হবে না।

অমিত শাহের এনআরসি হুমকি ভোলেনি গোটা দেশ। কলকাতার প্রকাশ্য জনসভায় এনআরসি নিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন শাহ। কিছুদিনের মধ্যেই বদলে গেল গোটা চালচিত্র। অসমে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা বুঝিয়ে দিল এনআরসিতে কেবল মুসলিমরা সমস্যায় পড়বেন, এমন নয়। মোট ১২ লক্ষ হিন্দুর নাম নেই এনআরসি চূড়ান্ত তালিকায়। এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে গেরুয়া শিবিরও। বিজেপিকে বিশ্বাস করে যাঁরা ভোট দিয়েছিলেন, হতবাক তাঁরাও। যে বার্তা হিন্দু ভোটারদের দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবের সঙ্গে তা মেলেনি। আসলে গোপনে প্রচার চলেছিল এনআরসি হবে কেবল মুসলিমদের বিতাড়নের জন্য। হিন্দুদের কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু বাঙালি হিন্দুদের নাম বাদ পড়ে। উত্তর-পূর্বের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে বিজেপি হিন্দু-মুসলিমে ভাগ করে। সেখানেই ভুলটা করে তারা।

রাজ্যে যে প্রতিবাদ শুনানি চলছে, তা বন্ধ করতে একাধিক ট্যুইট করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আশ্বস্ত করে বলা হয়, এনআরসি নিয়ে নানা আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে। তাঁরা মনে করছেন, এনআরসিতে নাম না থাকলে বুঝি নাগরিকত্ব থাকবে না। কিন্তু এনআরসি এবং সিএএ এক জিনিস নয়। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যে প্রমাণই যথেষ্ট। যে প্রমাণের জন্মের দিনক্ষণ এবং জায়গার নাম রয়েছে, এমন যেকোনও প্রমাণ চলবে। অযথা কোনও নাগরিককে হেনস্থা করা হবে না।

অন্য ট্যুইটে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য পূর্বপুরুষদের কোনও প্রমাণ জমা দিতে হবে না। ১৯৭১-এর আগে যাঁদের জন্ম, সেই বাবা কিংবা দাদুর কাছে জন্ম সার্টিফিকেট চাওয়া হবে না।
নাগরিক সংশোধনী আইনে বলা হয়েছে ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বর পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে যেসব সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই সংখ্যালঘুদের মধ্যে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি এবং খ্রিস্টানদের নাম থাকলেও মুসলিমদের নাম নেই। মায়ানমারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আক্রমণে প্রাণ হাতে এসেছিল রোহিঙ্গারা। তাহলে তাদেরই বা এ দেশে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না কেন? সে প্রশ্ন উঠেছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only