সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

লোকসভায় নাগরিকত্ব বিল পেশ, সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হয়েছে : অধীর চৌধুরী


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বহুলালোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ‘ক্যাব’ সংসদে পেশ করেছেন। আজ সোমবার লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করা মাত্রই বিরোধীরা তীব্র প্রতিবাদে সোচ্চার হন।   

ওই বিলের একাধিক অংশ নিয়ে আপত্তি তুলে লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী বিলটি ‘সংখ্যালঘুদের স্বার্থ বিরোধী’ বলে  অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের সংখ্যালঘু মানুষদের টার্গেট করেই এই বিলটি বানানো হয়েছে।’ 

অধীর বাবু একে সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করছে বলে মন্তব্য করেন। ১৪ নম্বর ধারায় দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইনে  সমানাধিকারের কথা বলা হয়েছে।

সৌগত রায়
তৃণমূল এমপি অধ্যাপক সৌগত রায় ওই বিলটিকে  ‘অসাংবিধানিক’ এবং ‘বিভেদ সৃষ্টিকারী’ বলে মন্তব্য করেন। সৌগত বাবু বলেন, ‘৩৭০ ধারা বিলোপের সময় বলা হয়েছিল ‘এক দেশ-এক সংবিধান’। কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে অসম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরার অনেক জায়গাকে অন্তর্ভক্ত করা হয়নি। এই বিল বিভাজনের উদ্দেশ্য করা হচ্ছে, যা সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার পরিপন্থী।’কিন্তু এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ওই বিল সংখ্যালঘুদের বিরোধী নয় বলে দাবি করেন।

যন্তরমন্তরে প্রতিবাদ
আজ দিল্লির যন্তর মন্তরে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ‘ক্যাব’-এর  প্রতিবাদে অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)-এর পক্ষ থেকে ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। 

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
অন্যদিকে, এআইইউডিএফ প্রধান মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল সংসদ চত্বরে ‘ক্যাব’ বিরোধী পোস্টার প্রদর্শন করেন।‘ক্যাব’-এর বিরোধিতা করে মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল-মুসলেমিন’ ‘মিম’  প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি বলেন, সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ ধর্মনিরপেক্ষতা। এই বিলের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। হিটলারের সঙ্গে অমিত শাহের নাম একইসঙ্গে উচ্চারিত হবে।

আজ সংসদ চত্বরে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ-এর এমপিরা ক্যাবের
বিরুদ্ধে পোস্টার হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান। ‘ক্যাব’-এর বিরোধিতা করে আজ অসমের গোলাঘাটে প্রতিবাদী মানুষজন গায়ের জামা খুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যায়।ত্রিপুরার আগরতলাতেও ক্যাবের বিরুদ্ধে মানুষজন সড়কে নেমে ব্যানার পোস্টার হাতে নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।  

কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবেশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে এদেশে আসা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান, পার্শিদের জন্য নাগরিকত্ব আইন সংশোধন ‘ক্যাব’ পাস করে তাঁদের নাগরিকত্ব দিতে চাচ্ছে। এক্ষেত্রে মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই। এভাবে নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব বিল পাস করানোর প্রচেষ্টাকে বিভিন্ন দল, সংগঠন ও সামাজিক সংস্থার পক্ষ থেকে তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only