বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আইনে পরিণত হলে অসমীয়া ভাষা ও সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত : শেরমান আলী আহমেদ


পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বৈঠকে বহুলালোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। বুধবার মন্ত্রীসভার বৈঠকে বিলটি অনুমোদিত হয়। সংসদের চলতি শীতকালীন অধিবেশনে সংসদের উভয়কক্ষে সরকার নাগরিকত্ব বিল পাস করানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। 

প্রস্তাবিত ওই বিলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে  ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে হিন্দু, বৌদ্ধ, পার্শি, শিখ, খ্রিস্টান যারা এদেশে  শরণার্থী  হিসেবে  আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এপ্রসঙ্গে অসমের কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ  ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সরকার যদি ওই আইন পাস করে তাহলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে অসম। কারণ অসমে কয়েক লাখ অ-মুসলিম বাংলাদেশি রয়েছে। তাঁদেরকে যদি নাগরিকত্ব দেওয়া হয় অসমে ভাষা ও সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে যাবে। অসমীয়া ভাষা ও সংস্কৃতিকে মুসলিমরা প্রথম থেকে গ্রহণ করেছে। অসমীয়া ভাষা ও সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত করার জন্য তাঁরা সাধ্যানুসারে চেষ্টা করেছে। কিন্তু অমুসলিম বাঙালি হিন্দুদেরকে নাগরিকত্ব দেয়া হলে অসমীয়া ভাষা বিপন্ন হবে। অসমীয়া ভাষী মানুষজন সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে। অসমের রাজ্য ভাষা বাংলা হবে। অসমীয়া সংস্কৃতি ধ্বংস হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে অসমের বাসিন্দারা।’

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল প্রসঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে টার্গেট করে বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ বলেন, ‘এখন ওঁরা ধর্মের নামে আফিং খাইয়ে আসলে এর কী প্রতিক্রিয়া হবে তা মানুষকে বুঝতে দেয়নি। কিন্তু যখন ওই আইন পাস হয়ে যাবে তখন লাখ লাখ অমুসলিম বাঙালী হিন্দু নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে। এবং তাঁরা নিজেরা বাঙালী বলে ঘোষণা করবে। বাংলা ভাষাকে তাঁদের মাতৃভাষা বলে চিহ্নিত করবে তখনই গোটা অসম জ্বলে উঠবে। সারা অসমের মানুষজন ক্ষেপে যাবে। একটা ভয়ঙ্কর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।’
কেন্দ্রীয় সরকার ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার যে নীতি নিয়েছে তার বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিআইএম-সহ আরও বেশ কয়েকটি দল। এছাড়া উত্তর-পূর্বভারতের সাতটি রাজ্যের ছাত্র ইউনিয়নের সম্মিলিত  সংগঠন নর্থ ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (নেসো) সাত রাজ্যজুড়ে ‘ক্যাব’-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি, জাতীয়তাবাদী যুব ছাত্র পরিষদ, বামপন্থী প্রগতিশীল মোর্চাও ওই আন্দোলনে শামিল হয়েছে।

 আন্দোলনকারীদের বক্তব্য,  বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে এতকাল ধরে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের’ বিতাড়িত করে উত্তর-পূর্ব ভারতের সব রাজ্যের জনজাতিদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবিকার সুযোগ সুবিধা রক্ষার দাবিকে সমর্থন করে এসেছে। কিন্তু আজ সেই বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি’র কারণে বৈধ নাগরিকত্ব ইস্যুকে ‘ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে’ পর্যবসিত করে আসল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only