মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

গ্রেফতার মিম-এর জামিরুল হাসানসহ ৩৫৪ জন, কঠোর প্রশাসন

–ফাইল চিত্র 

পুবের কলম প্রতিবেদক: ক্যাব বিরোধী আন্দোলনের নামে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ, প্রশাসন জোরদার অভিযানে নেমেছে। এ ছাড়া যারা এখনও হিংসায় রত রয়েছেন কিংবা প্ররোচনা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধেও পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে। ‘মজলিশে ইত্তেহাদুল মুসলেমিন’ বা  মিম-এর নেতা জামিরুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জামিন অযোগ্য ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিয়ামত আলি, পীরজাদা খোবায়েব আমীন, খলিল মল্লিক, মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের রাকিবুল হক, গোলাম মইনুদ্দিন, ইমতিয়াজ আহমেদ, পীরজাদা মুহিবুল্লাহ্ হোসেইনিকে আটক করে শেক্সপিয়ার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা ১৮ই ডিসেম্বর কলকাতায় একটি বড় সমাবেশ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাদের বোঝানো হচ্ছে, বর্তমান সময় এই ধরনের অনুষ্ঠান করার উপযোগী নয়। তবে তাদের গ্রেফতার করা হবে কিনা, তা জানা যায়নি।

সোমবার নবান্ন সূত্রে বলা হয়েছে, ক্যাবের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে রাজ্যের একাধিক জেলায় রেল স্টেশন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পথ অবরোধ এবং হিংসা ছড়ানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৩৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চিহ্নিত হাঙ্গামাকারীদের এই গ্রেফতার অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, আন্দোলনের নামে কোনও হিংসাত্মক কার্যকলাপ সরকার বরদাশ্ত করবে না। 

ক্যাবের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার বার্তা বেশ কয়েকবার দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সহিংসতা খানিকটা কমলেও গত দু’দিন ধরে রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় দেখা গেছে আন্দোলনের নামে সরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগানো, ভাঙচুর, রেল স্টেশনে হামলা, টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ এবং রেল ও বাসে অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক ধরনের ঘটনা ঘটছে। যার ফলে সাধারণ হিন্দু-মুসলিম প্রবল অসুবিধা ও সমস্যায় পড়েছেন।  এর রাজ্যে রেল পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং সাংসদ আহমদ হাসান (ইমরান) সহ মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা, আলেম সম্প্রদায় এবং মুসলিম সমাজকর্মী ও বুদ্ধিজীবীরা হিংসার পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ আন্দোলন করার জন্য বিশেষভাবে আবেদন জানিয়েছেন।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা সহ রাজ্যে প্রতিটি থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশকর্তাদের হিংসাত্মক কার্যকলাপ বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, রবিবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাড়িতে ডিজি বীরেন্দ্র সহ রাজ্য পুলিশের অন্যান্য শীর্ষকর্তা এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মাকে নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করেন। এই বৈঠকে হিংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে হিংসার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই কার্যত রবিবার মাঝরাত থেকেই জেলায় জেলায় শুরু হয়ে যায় ধরপাকড়। 

এডিজি ল অ্যান্ড অর্ডার জ্ঞানবন্ত সিং জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় জড়িত বা প্ররোচনাদানকারীদের গ্রেফতার করতে লাগাতার তল্লাশি চলছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
হিংসাত্মক কার্যকলাপ রুখতে রাজ্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ এবং সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারীর পরে এদিন অবশ্য হিংসাত্মক কার্যকলাপের ঘটনা মাত্রা কিছুটা কম ছিল। যদিও এদিন কয়েকটি রেল স্টেশনে ক্যাবের বিরুদ্ধে বিক্ষিপ্তভাবে উত্তেজিত কিছু মানুষ বিক্ষোভ দেখায়। বেশ কয়েকটি জায়গায় পথ অবরোধও করা হয়। 

তবে এদিন বীরভূমের মুরারইতে রাস্তা এবং রেললাইন অবরোধ করা হয়। কোথাও কোথাও ট্রেন লক্ষ করে বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোঁড়ে বলেও অভিযোগ। এদিন হাওড়া জেলার ডোমজুড় এবং বাঁকড়াতেও কয়েকটি জায়গায় পথ অবরোধ হয়। পুলিশ লাঠি চালিয়ে এবং টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বাঁকড়ায় প্রশিক্ষিত বাহিনীর্ সেনাও অভিযানে অংশ নেয়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় গত তিন দিনের মতো বড় ধরনের কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটলেও এদিন অবশ্য মহিষাদল, নন্দকুমার, হলদিয়া, প্রভৃতি অঞ্চলে জাতীয় সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে ক্যাবের প্রতিবাদ বিক্ষোভ করা হয়। 

গত শনি এবং রবিবার উত্তর ২৪ পরগণার দু’টি স্থানে ব্যাপক গোলমাল হলেও এদিন ওই এলাকা ছিল শান্ত। রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষকর্তার দাবি, এদিন মালদার কয়েকটি জায়গায় বিশেষ করে সামসী ও কালিয়াচকে ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে আগে থাকতে পুলিশ সক্রিয় হওয়ায় কোনও অশান্তি ঘটেনি। তাঁর আরও দাবি, গত কয়েকদিন মালদা, মুর্শিদাবাদ জেলাতেও দফায় দফায় নানা জায়গা অশান্ত হয়ে উঠলেও এদিন ওই দুই জেলার পরিস্থিতি ছিল অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। নতুন করে হিংসার ঘটনা ঘটেনি। 

তবে রেলের পক্ষ থেকে এদিন জানানো হয়েছে, শিয়ালদহের দক্ষিণ শাখার কয়েকটি জায়গায় ট্রেনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও অন্যদিনের মতো অগ্নিসংযোগ বা স্টেশনে হামলার কোনও ঘটনা ঘটেনি। সিউড়িতেও বিক্ষোভ সহিংসতার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only