সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ভেবেছিলাম, সেখানেই পুলিশের তাণ্ডব, আমরা কোথায় যাব: জামিয়ার ছাত্রী


ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে অহরহ। কোথাও নারীদের নিরাপত্তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ভেবেই মেয়েদের পড়তে পাঠান বাবা-মা। সেই ক্যাম্পাসেই কি না পুলিশের হাতে হেনস্থা হতে হচ্ছে।রবিবার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ। প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগার ও ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে পড়লেও পরে অনেককেই দেখা যায় রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।ঘটনার প্রতিবাদে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা প্রতিবাদে পথে নেমেছে সোমবার।

রাঁচি থেকে আসা এক ছাত্রী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম পড়ুয়াদের জন্যে দিল্লি সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নিরাপদ ভেবেই পড়তে অাসি। আমি ভেবেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ই সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, আমাদের কিছু ক্ষতি হবে না।কিন্তু সেখানে কেন্দ্র সরকার পুলিশ লেলিয়ে দিল। মারল ছাত্রদের। ভাঙচুর করল। সারা রাত ধরে কেঁদেছি, কী হচ্ছে এই সব।' ঘটনার পর তিনি এবং আরো অনেকেই আতঙ্কে হোস্টেল ছেড়ে যাচ্ছেন। অালিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা ছাড়ছেন ক্যাম্পাস, হস্টেল। 

ওই ছাত্রীটি আরও বলেন, আমি তো মুসলিম নই। তবুও আমি প্রথম দিন থেকে এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভের প্রথম সারিতে রয়েছি। কেন? আমার পরিবারের কী হয়েছে তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন করতেই পারেন ... কিন্তু আমি মনে করি আমরা যদি সত্যের পাশে দাঁড়াতেই না পারি তবে আমাদের পড়াশুনা কী কাজে লাগবে।এই ঝামেলা শুরু হওয়ার সময় আমরা লাইব্রেরিতে ছিলাম; সুপারভাইজারের কাছ থেকে আমরা ফোন পাই যে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। আমি সবে বেরোতে যাব, তখনই একটি ভিড় গ্রন্থাগারের দিকে ছুটে আসে এবং ৩০ মিনিটের মধ্যে গ্রন্থাগার চত্বর ভরে যায়।আমি কিছু ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায়​দেখতে পাই। সেই সময়েই পুলিশ ভিতরে এসে গালিগালাজ করতে শুরু করে। ওরা সবাইকে সরে যেতে বলছিল।আমরা হাত উপরে তুলে ধরে যাচ্ছিলাম। অবশেষে আমি আমার হোস্টেলে পৌঁছই। তখনই কিছু ছেলে ছুটে এসে আমাদের হোস্টেলে খবর দেয় যে কিছু মহিলা পুলিশ আমাদের মারধর করতে আসছে। আমি তখন পাশের ঝোপের দিকে ছুটে যাই ও সেখানে লুকিয়ে পড়ি। তারপরে আমি আমার হস্টেলে ফিরে আসি। আমি আরো অনেক ছেলেকে দেখি যাদের পোশাক রক্তাক্ত ​​ছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only