মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

বিনোদপুরে পথদূর্ঘটনায় নিহত ৫, জখম আরও ১৬ জন

দেবশ্রী মজুমদার, রামপুরহাট, ২৪ ডিসেম্বর: সন্তান সম্ভবা মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হল বাবা সহ দুই ছেলের। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে রামপুরহাট থানার বিনোদপুর সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনার পর এলাকায় যান নিয়ন্ত্রণ এবং বাতিস্তম্ভ বসানোর দাবি জোরদার হয়েছে। এলাকায় গিয়ে গ্রামবাসীদের দাবি মেনে নেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই ছেলে ও বাবার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের মহেশপুর থানার পলশা গ্রামে। মেয়ের প্রসব যন্ত্রণা হওয়ায় আবুল বাসার (৫০) দুই ছেলে উমর ফারুক (১০) ও মইনুদ্দিন শেখের (৯) কে সঙ্গে নিয়ে একটি টাটা সুমোয় জামাই, শ্যালিকা চালক সহ আটজন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসছিলেন। ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে আসার সময় তারাপীঠ থেকে শবদেহ দাহ করে ট্রাক্টরে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন মাড়গ্রাম থানার পরিহারপুর গ্রামের ২৩ জন গ্রামবাসী। একটি মারুতি ভ্যানকে বাঁচাতে গিয়ে বিনোদপুর গ্রামের কাছে ট্রাক্টরের সঙ্গে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয় টাটা সুমোর। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় আবুল বাসার ও তাঁর দুই ছেলের। অন্যদিকে টাটা সুমোর ধাক্কায় ট্রাক্টর থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে মৃত্যু হয় তিলক লেট (৫০) ও পঞ্চানন কোনাই (৬৪) নামে দুই ব্যক্তির। জখম হয়েছেন ১৬ জন। তাদের মধ্যে ট্রাক্টরের ছজন যাত্রীকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে থেকে দুজনকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

বাবাকে মর্গে গিয়ে শেষবারের মতো দেখার পর সফিয়া খাতুন বলেন, আমরা দুই বোন পাঁচ ভাই। আমার পুত্র বা কন্যা সন্তান যাই হোক না কেন তা নিয়ে বাবা খুবই আনন্দে ছিল। তাইতো জামাই নিষেধ করা সত্বেও বাবা আমাকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য এক প্রকার জেদ ধরে। কিন্তু নাতি বা নাতনির মুখ দেখার আগেই বাবা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। দুই ভাইকেও আর ফিরে পাব না। একমাত্র উপার্জনশীল ছিল বাবা। এখন ছোট ছোট ভাই বোনেরা কী যে হবে বুঝতে পারছি না। সফিয়ার স্বামী আব্দুল রবও দুর্ঘটনায় মাথায় চোট পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর সন্তান হওয়ার খবরে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের মধ্যে কত আনন্দ ছিল। র্দুঘটনায় স্ত্রী অক্ষত থাকলেও আমার শ্বশুর ও দুই শ্যালকের মৃত্যু সেই আনন্দ কেড়ে নিল।

অন্যদিকে বেয়াইয়ের মৃতদেহ সৎকাজ করে ফেরার পথে মৃত্যু হয় তিলক লেটের (৬০)। একই শবদাহ করতে গিয়ে মৃত্যু গ্রামের পঞ্চানন কোনাইয়ের (৬০)। ফলে মাড়্গ্রাম থানার পরিহারপুর গ্রামেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত তিলক লেটের ছেলে প্রসেনজিৎ লেট বলেন, বাবার দিনমজুরের আয়ে সংসার চলত। এখন কীভাবে সংসার চলবে ভেবে পাচ্ছি না।

এদিকে ঘটনার পর ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের বিনোদপুর মোড়ে বাতিস্তম্ভের দাবি জানান। সেই সঙ্গে এলাকায় স্পীড বেকারের দাবি তোলেন। মঙ্গলবার বিকেলে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। এরপর এলাকায় হাইমাক্স লাইট বসানো এবং স্পীড ব্রেকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only