বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

পুলিশের মুখে ছিল ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় ‘স্টান গ্রেনেড’!



দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উপর হওয়া পুলিশি অভিযানের তুলনায় অনেক বেশি নির্মম ও মর্মান্তিক পুলিশি অভিযান হয়েছিল যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশের আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে। একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী টিম আলিগড়ে পুলিশি অভিযানের যে বর্ণনা দিয়েছে, তা থেকে এমনটা মনে হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। 

গত সপ্তাহে আলিগড় পড়ুয়াদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যোগীর পুলিশ। পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম’ বা তথ্য অন্বেষণকারী দল যে তথ্য দিয়েছে– তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, পুলিশ পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে ‘স্টান গ্রেনেড’ (অচেতন করতে ব্যবহার হয়) ব্যবহার করা হয়েছিল। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের দাবি, এই ধরনের গ্রেনেড সাধারণত যুদ্ধের সময় বা জঙ্গি দমন অভিযানে ব্যবহার করা হয়। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা শিক্ষক, পড়ুয়া ও অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি থেকে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে– তাহলে কি যোগীর পুলিশ আলিগড়ের পড়ুয়াদের ‘জঙ্গি’ বলে মনে করে? আরও অভিযোগ, পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর সময় পুলিশ ও জওয়ানরা ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানও দিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও রিপোর্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের নৃশংসতার হাত থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রক্ষা করতে পারেনি ও সেখানকার আবাসিকদের সুরক্ষা দিতে পারেনি। যদিও রিপোর্টের বক্তব্য উড়িয়ে দিয়েছে আলিগড় সিটির পুলিশ সুপার অভিষেক। তিনি বলেন, পড়ুয়ারা হিংসাত্মক পদক্ষেপ করছিল। খুব কম সংখ্যক পুলিশই সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তারা শুধু নিজেদের আত্মরক্ষাই করেছিল। তবে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের বিষয়টি অবশ্য উড়িয়ে দেননি পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, হতে পারে স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু কতগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বোঝা যাবে। তাছাড়া এই স্টান গ্রেনেড প্রাণঘাতী নয়। ভিড় ফাঁকা করতেই এগুলি ব্যবহার করা হয়। 

উল্লেখ্য, অনুসন্ধানকারী টিমে মোট ১৩ জন সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রাক্তন আইএএস অফিসার হর্ষ মান্দার, শিক্ষাবিদ্ নন্দিনী সুন্দর, সমাজকর্মী জন দয়াল, লেখক নাতাশা বাধোয়ার মতো সদস্যরা ছিলেন। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্যই পুলিশ, সেনা ডেকেছিলেন। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, সেনা-জওয়ানরা কেন ক্যাম্পাসের দরজা ভাঙতে গেল? আলিগড়ের বিশেষ পুলিশ সুপার আকাশ কুলাহারি আবার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের রিপোর্টের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। কুলাহারি বলেন, রিপোর্টটির বৈধতা আগে পরীক্ষা করে দেখা দরকার। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only