শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

কারফিউয়ের মধ্যে কানপুরে সম্প্রীতির নিদর্শন মুসলিম বরযাত্রীদের মানববন্ধন করে বিয়েবাড়িতে পৌঁছে দিলেন হিন্দু যুবকরা

কানপুর, ২৭ ডিসেম্বর: উত্তরপ্রদেশে যখন প্রশাসন থেকে শুরু করে এক শ্রেণির মানুষ সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াচ্ছে তখন সম্প্রীতির নিদর্শন হয়ে থাকল ওই রাজ্যের কানপুর শহরের একদল হিন্দু যুবক। এক মুসলিম বরযাত্রীদের দলকে মানববন্ধন করে নিরাপত্তা দিয়ে পৌঁছে দিলেন হিন্দু প্রতিবেশীরাই।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগুন জ্বলছে কানপুরে। ইতিমধ্যে সেখানে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে বিক্ষোভকারীদের। আর তাদের সবাই মুসলিম। এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িকতা বিরাজ করলেও সম্প্রীতিকেই পাথেয় করলেন কতিপয় হিন্দু যুবক। জানা গেছে, কানপুর শনিবারও উত্তাল ছিল সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভ সামাল দিতে কারফিউও জারি ছিল। তখন চিন্তা দানা বাঁধে কানপুরের বাকারগঞ্জের খান পরিবারের মধ্যে। কারণ, তাদের ২১ বছরের কন্যা জিনাতের সঙ্গে বিয়ের কথা প্রতাপগড়ের হাসনাইন ফারুকির। কিন্তু ফারুকির বাড়ি থেকে ২১ ডিসেম্বর ফোন করে খান পরিবারকে জানানো হয়, কানপুরে কারফিউ চলছে। তাই কীভাবে বরযাত্রী যাবে, তা নিয়ে চিন্তায় তারা। একথা শোনার পর ভেঙ্গে পড়েন জিনাতের মামা ওয়াজিদ ফজল। গোটা খানপরিবার তখন বিমর্ষপ্রায়। বিয়ে বানচাল হওয়অর উপক্রমের খবর পৌঁছে যায় প্রতিবেশী বিমল ছাপাড়িয়ার কাছে। তখন চাপাড়িয়া তার বন্ধু সোমনাথ তিওয়ারি ও নীরজ তিওয়ারি এবং অন্য সাথীদের নিয়ে এই বিয়ে যাতে সম্পন্ন হয় তাতে এগিয়ে আসেন। বরযাত্রীদের যাতে কনের বাড়িতে পৌঁছতে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য তারা প্রস্তুত বলে বরের বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। তাতে তারা সম্মত হন। এরপর ৭০ জনের বরযাত্রীর দলকে বিমল ছাপাড়িয়ার নেতৃত্বে প্রায় ৫০জন হিন্দু যুবক মানববন্ধন করে কানপুর শহরে কনের বাড়িতে নিরাপদে পৌছে দেওয়া হয়। বেসরকারি স্কুলের পরিচালক বিমল ছাপাড়িয়ার এই মহান উদ্যোগ সাধুবাদ পায় এলাকায়। ছড়িয়ে পড়ে তার সম্প্রীতি রক্ষার অনন্য কৃতিত্ব। এ ব্যাপারে বিমল বলেন, ছোট থেকেই বেড়ে উঠতে দেখেছি জিনাতকে। সে আমার ছোট বোনের মতো। বিয়ে না হতে পারলে তার হৃদয় ভাঙবে এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। তাই তিনি উদ্যোগী হয়েছেন বরযাত্রীরা যাতে নিরাপদে বিয়ে স্থলে পৌঁছতে পারে। তাই তিনি, গাড়ি ও মিনিবাসে আসা বরযাত্রীদেরকে মানববন্ধন করেই কাউফিউয়ের মধ্যেই বিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন।

যথাসময়ে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় খুশির আমেজে ভরে যায় এলাকা। কনে জিনাত তাই আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, প্রকৃত দাদার মতো কাজ করেছেন বিমলবাবু। এই অবদান তাই কোনওদিন ভোলার নয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only