রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

বিজেপিকে সংবিধানের পাঠ দিতে কলকাতায় মিছিল যুব কংগ্রেসের


চিন্ময় ভট্টাচার্য 
উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধিকে হেনস্তা এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রবিবার কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল করল প্রদেশ যুব কংগ্রেস। ধর্মতলা থেকে শুরু হয়ে এই মিছিল যাওয়ার কথা ছিল রাজ্য বিজেপি অফিসে। কিন্তু, সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের আগে নির্মীয়মাণ ইসলামিয়া হাসপাতালের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে মিছিল আটকে দেয়। মিছিলে যুব কংগ্রেস নেতারা ছাড়াও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানও উপস্থিত ছিলেন। 

এদিন আবদুল মান্নান বলেন, 'সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং এনপিআর চালু করে কেন্দ্রীয় সরকার আসলে দেশে এনআরসি লাগু করতে চাইছে। এনআরসি বাঙালি-বিরোধী। এর সঙ্গে হিন্দু-মুসলমানের কোনও সম্পর্ক নেই। গত কয়েক সপ্তাহে অসমের এনআরসি ডিটেনশন ক্যাম্পে দু'জন বাঙালি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দু'জনেই হিন্দু। এর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। সরকারের সেই আচরণের প্রতিবাদে আজ আমরা এই মিছিল করছি।'

উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধিকে পুলিশ হেনস্তা করেছে। এই প্রসঙ্গে আবদুল মান্নান বলেন, 'শুধু প্রিয়াঙ্কা গান্ধিই নন। যাঁরাই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তাঁদের সবাইকেই মোদি সরকার ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ হেনস্তা করছে। আমরা তারও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।'

মিছিল থেকে প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি সাদাব খান বলেন, 'কেন্দ্রীয় সরকার বিভাজনের রাজনীতি করছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভাজন করতে চাইছে। এই আইন সংবিধানকে ভঙ্গ করে তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করছি, বিজেপি নেতারা সংবিধান সম্পর্কে অজ্ঞতার জন্য এই আইনের হয়ে সওয়াল করছেন। তাই আমরা রাজ্য বিজেপি অফিসে সংবিধানের একটি কপি উপহার দিতে মিছিলের আয়োজন করেছি।'

মিছিলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নমুনা হিসেবে গান্ধিজি, এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী, মৌলবি এবং যাজক সাজিয়ে চার জন যুবককে নিয়ে এসেছিলেন প্রদেশ যুব নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় -সহ যুব কংগ্রেসের কর্মীরা। তাঁরা জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে এক বিশাল আকারের জাতীয় পতাকাও সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। মিছিল থেকে যুব কংগ্রেস কর্মীরা, 'মোদি সরকার সে আজাদি'র স্লোগান দেন।

রবিবার ছুটির দিন থাকায়, অনেকেই শহরের নানা দর্শনীয় জায়গা দেখার জন্য এদিন পরিবারসমেত কলকাতায় এসেছিলেন। মিছিলের ফলে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা  চিত্তরঞ্জন এভিনিউয়ে যানজট তৈরি হওয়ায়, সেই সব সাধারণ যাত্রীদের রীতিমতো ভুগতে হয়েছে।'

এদিনই প্রিয়াঙ্কা গান্ধিকে হেনস্তা ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর যোগী সরকারের নির্মম আচরণের প্রতিবাদে এনএস রোডে উত্তরপ্রদেশ পর্যটন দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় প্রদেশ ছাত্র পরিষদ। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন প্রদেশ ছাত্র পরিষদের সহ-সভাপতি সোমদীপ ঘোষ ও কলকাতা জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি অর্ঘ্য গণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only