শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

বাবরি রায় পুনর্বিবেচনার দাবিতে কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

বাবরি মসজিদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মুসলিমরা ন্যায়বিচার পায়নি, তাই বিষয়টির পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সঙ্গে এনআরসি-র নামে মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে, এমনই কয়েকটি দাবিতে কলকাতায় সমাবেশ করল সারাবাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন সহ বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন।

 শুক্রবার দুপুরে টিপু সুলতান মসজিদ থেকে কয়েকশো মানুষ মিছিল করে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে যান এবং সেখানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন। এ দিনের সভায় উদ্যোক্তা ও বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সারাবাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, আদিবাসী নেতা শরদিন্দু উদ্দীপন, রাজ্য ইমাম কাউন্সিলের সভাপতি মাওলানা আখতার হোসেন, মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের সদস্য মাওলানা আবু তালিব রহমানী, জামাআতে ইসলামি হিন্দের নেতা মুহাম্মদ নুরুদ্দীন, দলিত নেতা সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস, বন্দিমুক্তি কমিটির নেতা ছোটন দাস, সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সহ-সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, ওই সংগঠনের ছাত্রনেতা নাজমুল আরেফিন, আইনজীবী আবদুল হান্নান, মাওলানা আনোয়ার হোসেন কাশেমী ও সমাজকর্মী হোসেন হাজী প্রমুখ।

এ দিনের সমাবেশে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বাবরি মসজিদ রায়ে ন্যায়বিচার পায়নি মুসলিমরা। তিনি আরও বলেন, এটা শুধু মুসলিমদেরই নয় দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের উপরেও আঘাত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোটেও সুবিধার নয়– ভয়ংকর অন্ধকার নেমে এসেছে বলেও তাঁর অভিযোগ। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনও মুসলিমদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, এ দিনের সভা রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। তবে নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সভার ব্যবস্থা করে পুলিশ।

জামাআতে ইসলামি হিন্দের নেতা নুরুদ্দীন প্রশ্ন তোলেন, মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ নেই। তবে রাম মন্দির তৈরির রায় কেন? তাঁর কথায়, তথ্যের ভিত্তিতে, যুক্তির ভিত্তিতে বা আইনের দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার হয়নি। তিনিও রায় বিবেচনার দাবি তোলেন। একইভাবে সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস, ছোটন দাস বিচার ব্যবস্থার কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এ দিন। ছোটন দাসের অভিযোগ, বিচার ব্যবস্থা ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। তিনি আরও বলেন, যেখানে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বা আইএসআই-এর রিপোর্ট নিয়েই দেশের ঐতিহাসিকদের মধ্যেই সন্দেহ রয়েছে, সেখানে কোর্ট কেন পুরো বিষয়টি নিয়ে ভাবল না? বিষয়টির কিছুই বুঝতে পারছি না। গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের সরকার মন্দির-মসজিদ তৈরি করতে পারে? প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। 

অন্যদিকে শরদিন্দু উদ্দীপনও বলেন, কেউ কী বলেছে যে, বাবরি মসজিদের জায়গায় রামের জন্ম হয়েছিল? তবে কেন রাম মন্দির তৈরি করার রায়? তাঁর দাবি, রায় পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং মসজিদের জমিকে ফিরিয়ে দিতে হবে। সঙ্গে আরও অভিযোগ করে বলেন, গভীর সংকটকালীন সময়ের মুখোমুখি দেশ। পাশাপাশি রাজ্য ইমাম কাউন্সিলের সভাপতি মাওলানা আখতার হোসেন ও জমিয়তে আহলে হাদিসের সম্পাদক মাওলানা আলমগীর সরদারও ন্যায়বিচারের দাবি করেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only