বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

‘ক্যাব’ ও এনআরসি’র ওপরে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে ‘গণভোট’ করার চ্যালেঞ্জ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    

পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক :  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোট নেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার কলকাতায় সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এনআরসি  বিরোধী এক সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি এসংক্রান্ত মন্তব্য করেন।    

মমতা কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যদি ধাক্কা সামলাতে হয় আর বুকের যদি পাটা থাকে চলে আসুন, ভোটে চলে আসুন, ‘গণভোট’। নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি’র ওপরে সারা ভারতে একটা ‘গণভোট’ হয়ে যাক। এটা আপনি করবেন না। ইউনাইটেড নেশনস করবে। একটা নিরপেক্ষ সংস্থা। তাঁদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা  পালন করতে দিন। জাতিসঙ্ঘ, মানবাধিকার কমিশন, গুরুত্বপূর্ণ যারা এক্সপার্ট তাঁদের নিয়ে একটা কমিটি হোক তাতে তৃণমূলের থাকার দরকার নেই, বিজেপিরও থাকার দরকার নেই, অন্য দলেরও থাকার দরকার নেই। হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টান কারও থাকার দরকার নেই। আমরা চাই তাঁরা একটা ‘গণভোট’ সংগঠিত করুক ভারতে। আমরা দেখতে চাই কটা লোক ওই আইন মানছে আর কটা লোক মানছে না। যদি মানুষ না মানে বলুন ইস্তফা দিতে বাধ্য হবেন।’ 

মমতা কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে  হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, ‘আগুন নিয়ে খেলবার চেষ্টা করবেন না! সবকিছু হারিয়ে গেলে ফেরত পাওয়া যায় কিন্তু অস্তিত্ব হারিয়ে গেলে আর ফেরত পাওয়া যায় না।’  

মমতা আজ বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য যে বাবা-মায়ের জন্ম তারিখ কবে তার কৈফিয়ত দিতে হবে! আমরা এখানে জন্মেছি এটা বড় পরিচয় নয়? যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরেও এসেছেন সেটা তো ভারত সরকারের চুক্তি অনুযায়ী এসেছেন ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত। তাঁরা অনেক বেশি ভারতীয় নাগরিক। মতুয়ারাও যারা এসেছেন তাঁরা বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধের আগে ও পরে এসেছেন। তাঁরা সকলেই নাগরিক।’ মমতা আজ প্রত্যেক সম্প্রদায় ও জেলার নাম উল্লেখ করে বলেন, এসব জায়গায় বসবাসকারী সকলেই নাগরিক। 

তিনি বিজেপি’র সমালোচনা করে বলেন, ‘কে হঠাৎ করে মাথার দিব্যি দিল যে ‘বিজেপির মাদুলি’ পরে প্রমাণ করতে হবে যে নাগরিক। এখানে ‘বিজেপির মাদুলি’ পরে প্রমাণ   করতে হবে আমরা নাগরিক কী আমরা নাগরিক নই! এর থেকে লজ্জা আর কিছু হতে পারে না! ওঁরা বলছে কী,  তোমার বাবা মায়ের জন্ম প্রমাণ দিতে হবে! আমার বাবা-মায়ের যদি জন্ম প্রমাণপত্র দিতে হয় তাহলে আপনাদের  বাবামায়েরও তো দিতে হবে। যারা এসব বলছেন তাঁদের বাবা-মায়েরটা আছে তো? বড় বড় নেতারা! বিজেপি’র জন্ম যদি ১৯৮০ সালে হয় তাহলে ১৯৭০ সালের হিসাব চায় কীভাবে? ১৯৬০ এর হিসাব, ১৯৫০-এর হিসাব চায় কীভাবে?’ 

মমতা বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে যদি আধার কার্ড, প্যান কার্ড, রেশন কার্ড না চলে তাহলে কী ‘বিজেপি’র তাবিচ’ চলবে? 
মমতা আজ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি বাতিল করা না পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে বলে জানিয়ে দেন এবং সব রাজ্যকে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only