রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯

হেমন্তের শপথে মমতা সহ বিরোধীরা


ফের কি হবে জোট?


পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে পালাবদল হয়েছে। আজ শপথ নেবেন হেমন্ত সোরেন। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শনিবারই ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যোগ দেওয়ার কথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়েরও। এই শপথ অনুষ্ঠানে মধ্যমণি যে মমতাই তা নিয়ে বিতর্কের কোনও জায়গা নেই। চলতি সময়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে সবথেকে প্রতিবাদী কণ্ঠ মমতাই। নোটবন্দিই হোক কিংবা এনআরসি। পথে নেমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তাঁর মতো প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি কাউকেই। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে সংসদের  ভিতরে এবং বাইরে তীব্র ভাষায় বিরোধিতা করেছে তাঁর দল। নাগরিকত্ব আইন হয়ে যাওয়ার পরও তা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন তিনি। বহু মানুষের প্রতিবাদী কণ্ঠ তাঁর মাধ্যমে পৌঁছে গিয়েছে দিল্লি পর্যন্ত।

হেমন্তের শপথ অনুষ্ঠান সেরে আজই পুরুলিয়ায় পৌঁছে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফিরবেন কলকাতায়।

মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রাহুল গান্ধিরও। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও শপথে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। হাজির থাকার কথা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধির। এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার, বসপা সুপ্রিমো মায়াবতী, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে, ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন এবং জেডিএস নেতা কুমারস্বামীর যোগ দেওয়ার কথা। তবে তাঁরা সকলেই যোগদান করছেন কিনা শনিবার পর্যন্ত সে নিশ্চয়তা মেলেনি।

বর্তমান রাজ্যে-রাজ্যে ধাক্কা খাচ্ছে বিজেপি। রাজনৈতিকভাবে তারা বর্তমানে অনেকটাই দুর্বল। কেবল হিন্দুত্বকে ঢাল হিসেবে আঁকড়ে ধরে থাকা ছাড়া তাদের হাতে বলার মতো কোনও ইস্যু নেই। সেটাই ভাবাচ্ছে নম’র দলকে। এদিকে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে সরকার বিরোধীরা। ইভিএম-এ তার প্রভাবও পড়ছে। এই অবস্থায় বিরোধীরা চাইছে জোট বাঁধতে।

এই মুহূর্তে যেহেতু বিজেপির বিরুদ্ধে সবথেকে প্রতিবাদী কণ্ঠ মমতা, তাই তাঁর উপস্থিতি সোরেনের শপথকে বাড়তি রাজনৈতিক মাইলেজ দিচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, ফের একবার হেমন্ত সোরেনের শপথকে সামনে রেখে বিরোধীরা হাতে-হাত মেলাতে পারেন। দেশজুড়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে। বিজেপির শরিকদের গলায়ও এনপিআর এবং এনআরসি নিয়ে ভিন্ন সুর। নীতীশের মতো পুরোনো শরিকও এনআরসির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এনপিআর নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া হল, গোটা বিষয়টি ভালো করে বুঝে দেখতে হবে।

বেশিরভাগ রাজ্যেই সিএএ–এনপিআর এবং এনআরসি-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে। কেন্দ্র বিরোধী তীব্র স্লোগান ধ্বনিত হয়েছে দেশজুড়ে। এরকম অবস্থায় মমতাকে সামনে পেয়ে বিরোধী ঐক্যের স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসার কথা।

কাকতালীয়ভাবে হলেও ঝাড়খণ্ড নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিনেই একাধিক অ-বিজেপি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে ১৩ টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী  জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা এনআরসি চালু হতে দেবেন না। যেসব মুখ্যমন্ত্রীকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিয়েছিলেন, তাঁদের অধিকাংশই এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। সেই হিসেবে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের ফরমুলা সঙ্গতভাবেই সামনে আসছে।
লোকসভার পরিপ্রেক্ষিত আর নেই। মাত্র দুই বছরের মধ্যে একাধিক রাজ্য হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির। ৭১ শতাংশ থেকে ৩২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে তারা। ফলে বিরোধীরা এটিকে মোক্ষম সময় বলে মনে করছে। ঝাড়খণ্ড নির্বাচনের পর ফের একবার জোটের সাফল্য সামনে এল। ফলে বিরোধীদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে জোট করলে বিজেপিকে হঠানো আদৌ কোনও কঠিন বিষয় নয়। প্রশ্ন হল, নেতৃত্ব দেবে কে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গত কারণেই বিরোধী দলের মুখ হিসেবে ধরা হতে পারে। তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও অন্য যেকোনও আঞ্চলিক দলের নেতা-নেত্রীদের থেকে বেশি। তবে এখানে অন্যতম প্রশ্ন কংগ্রেস। সোনিয়া গান্ধির সঙ্গে মমতার রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত ভালো। ব্যক্তিগত সম্পর্কও মধুর। তবে রাহুলের সঙ্গে তেমনটা নয়। কংগ্রেস যদি রাহুলকে মসনদে বসানোর স্বপ্নে বিভোর থাকে, সেক্ষেত্রে এই জোট কতটা জমাট বাঁধবে তা নিয়ে অবশ্য গোড়াতেই প্রশ্ন থেকে যায়। তবে বর্তমান প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের কাছেও বিজেপিকে হঠানোর এটি এক সুবর্ণ সুযোগ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only