শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

‘আপনাদের ভাবনা আমায় দিন সব সামলে নেব’, নৈহাটিতে নাগরিকদের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর


পুবের কলম প্রতিবেদক: শুরু থেকেই তিনি প্রতিবাদী। বরাবরই মানুষের জন্য লড়েছেন। এনআরসি বা সিএএ রুখতে রাজ্যবাসীর সুরক্ষায় তিনি পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সব আঘাত আগলে অগ্নিসম হুংকার দিয়েছেন বারবার। প্রয়োজনে জীবন দেবেন, তবুও বাংলায় সিএএ লাগু হতে দেবেন না। এনআরসি এ রাজ্যে হবে না। শুক্রবার আরও একধাপ এগিয়ে রাজ্যবাসীকে অভয় দিলেন মমতা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, আপনাদের চিন্তা আমার মাথায় দিন। আমি ঠিক সামলে নেব।

নির্বাচনের আগে সোশ্যাল সাইটে নিজেদের দেশের চৌকিদার পরিচয় দিয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে ছিল বিজেপি। সেসময় বাংলার তৃণমূল নেতৃত্ব বারবার একটা কথা বলতেন, এ রাজ্যে জনগণের পাহারাদার মমতা। সেখানে নতুন করে কোনও চৌকিদার দরকার নেই। নির্বাচন শেষ। এই মুহূর্তে এনআরসি বা সিএএ আতঙ্ক ক্রমেই গ্রাস করছে রাজ্যবাসীকে। জনতার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে মমতা বলছেন, আপনারা নাগরিক। নিশ্চিন্তে থাকুন। আপনাদের সব চিন্তা আমি দেখে নেব। চিন্তা করার দরকার নেই।

উল্লেখ্য, এ দিন যে জায়গায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী কথাগুলি বলছেন, নির্বাচনের পর থেকেই ওই অঞ্চল ছিল উত্তাল। বিশেষ করে এক সময় এই অঞ্চলে তৃণমূলের নেতৃত্ব যাঁদের হাতে ছিল, তার একটা বড় অংশ গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল সেখানে। এখন অবশ্য সেখানে গেরুয়া শিবির ছেড়ে ঘরে ফেরার ঢল। ঘর সামলে এ দিন নৈহাটিতে দাঁড়িয়ে সে কথাই স্মরণ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমি নিজে এখানে এসে পার্টি অফিস দখলমুক্ত করে গিয়েছিলাম। এখন যাঁরা আবার ফিরে এসেছেন, তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ।

গত কয়েকদিন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে নাগাড়ে মিছিল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এ দিন নৈহাটি উৎসব যেখানে হচ্ছে, সেখানে রয়েছে মতুয়া ও বাংলাদেশি উদ্বাস্তুদের একটা বড় অংশের বাস। নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই এই এলাকায় গেরুয়া শিবির তাঁদের শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। অবশ্যই তাঁদের অস্ত্র হল নাগরিকত্ব। এ দিন নৈহাটি থেকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সেই প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণ ভোঁতা করার চেষ্টা করে বলেন, রাজ্যের সমস্ত উদ্বাস্তু কলোনিকে আমরা রেগুলারাইজ করেছি। কেন্দ্র তাঁদের স্বীকৃতি দিতে না চাইলেও আমরা তাঁদের স্বীকৃতি দিয়েছি। সবাইকে জমির দলিল দিয়েছি। এখন সবাই নাগরিক। সবাই সমান।

এই মঞ্চ থেকে মতুয়া নিয়ে বিজেপির মুখোশ খুলে দেওয়ার চেষ্টাও করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, নাগরিকত্বের ধুয়ো তুলে মানুষকে ভুল পথে চালিত করছে বিজেপি। মতুয়াদের মিথ্যা বলা হচ্ছে। কার্ড করে দেওয়ার নাম করে টাকা তোলা হচ্ছে। এ দিন এই অনুষ্ঠান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, যাঁরা বলছেন নাগরিকত্ব দেবেন, তাঁদের নাগরিকত্ব কে দিয়েছে? তাঁরাই যে নাগরিক, তার কী প্রমাণ রয়েছে? নিজেদেরই কোনও প্রমাণ নেই, অন্যকে কী নাগরিকত্ব দেবেন?
গত কয়েকদিনের মতো এ দিনও রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন মমতা। তিনি বলেন, এ রাজ্যের ক্ষমতায় আছি আমরা। মনে রাখবেন, এখানে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। মরে যাব, তবু ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। অসমে ডিটেনশন ক্যাম্প হয়েছিল। কারণ সেখানে ছিল বিজেপি সরকার। এখানে আমরা তা করতে দেব না। একইসঙ্গে এনপিআরও যে জনগণের পক্ষে শুভ নয়, তাও জানিয়ে দেন তিনি। মমতার ভাষায়, আমরা আগে তো জানতাম না এনপিআর-এ বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাবা-মায়ের জন্মের কাগজ চাওয়া হয়। তাই এর জন্য অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে জানা গেল, তা নয়। তাই এনপিআর বন্ধ করে দিয়েছি। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, আমার হাত দিয়ে কোনওভাবেই মানুষের অনিষ্ট হতে পারে না। অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে তা আমি হতে দেব না।

প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন বারবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ঘুরেফিরে এসেছে আধার ও প্যান কার্ড প্রসঙ্গ। এ দিনও ফের একই প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রকে বিঁধলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে কেন্দ্র বলেছিল প্যান, আধার বাধ্যতামূলক। এখন বলছে এগুলি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। তাহলে কেন এগুলি করা হল? কেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার যোগ করতে বলা হয়েছিল? কেনই বা বলা হয়েছিল আধার না দিলে টেলিফোন লাইন দেওয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, আধার-প্যান না চললে কি চলবে বিজেপির মাদুলি! 

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি কী বলছে, তা নিয়ে ভাবতে হবে না। শুধু ভোটার কার্ডটা ঠিক রাখুন। আর কিছুর দরকার নেই। এখানে সবাই নাগরিক। ভারত সম্প্রীতির দেশ, বিভাজনের নয়।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, এখানে রাজা বলে কেউ নেই। আমরা সবাই রাজা। সবাই নাগরিক। সবাই সমান। আমার যা দাম, একজন রিকশাওয়ালারও তাই দাম। একজন রিফিউজিও তাই। অতএব কারও ভয় পাওয়ার দরকার নেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only