রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৯

যাদবপুরে সমাবর্তন পিছনোর সিদ্ধান্ত বাতিল আচার্য ধনকড়ের


চিন্ময় ভট্টাচার্য 

আচার্যের 'এক্তিয়ার' ব্যবহার করে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠান পিছনোর সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। নিজের সিদ্ধান্তের কথা তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও জানিয়ে দিয়েছেন। রবিবার এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, 'এই নিয়ে পাঁচটি সমাবর্তন বাতিল করা হল। এবার আমায় পদক্ষেপ করতেই হত। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সমাবর্তন অনুষ্ঠান পিছনোর সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। আমার সিদ্ধান্ত উপাচার্যকে জানিয়েছি। শিক্ষার স্বার্থেই পদক্ষেপ করলাম।' সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পাশাপাশি, সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট বৈঠকেও তিনি উপস্থিত থাকবেন বলেই রাজ্যপাল জানিয়েছেন।

এই পদক্ষেপ গ্রহণের আগে রবিবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল, যাদবপুরের ঘটনায় তাঁর 'এক্তিয়ার' প্রয়োগের হুমকি দিয়েছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'আমাকে আমন্ত্রণ না-জানানো নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই এক্তিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না-করলে, আমি আমার এক্তিয়ার প্রয়োগ করব। আমি যাঁকেই জিজ্ঞাসা করি, তাঁরাই বলছেন যে এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাঁরাও আসলে ভয়ের মধ্যে রয়েছেন। আমি পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ বাঁচাবই। উপাচার্য শুধু নামেই রয়েছেন। শিক্ষার রাজনীতিকরণ হয়ে গিয়েছে। আমি যাদবপুরে মন্ত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়েছি। তবে, আমি ক্ষমতার সম্পূর্ণ প্রয়োগ করতে চাই না।' অভিযোগের সুরে তিনি আরও বলেন, 'এই সপ্তাহে আমার ১৭টি অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকরা বলেছেন, অনুষ্ঠানের একেবারে শেষপর্বে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বলছে, রাজ্যপালকে ডাকলে ভালো ফল হবে না।' নিজের এই সব ক্ষোভের কথা জানিয়ে রবিবার রাজ্যপাল একগুচ্ছ টুইটও করেন। 

এর আগে শনিবারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ছাত্রবিক্ষোভের কথা ভেবে আপাতত সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। সেকথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনে রাজ্যপালকে শিক্ষাসচিবের মারফত জানিয়েও দেওয়া হয়েছে। পালটা টুইট করে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত এই বিধিরও তীব্র সমালোচনা করেন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, 'আচার্যের সঙ্গে উপাচার্যের সরাসরি যোগাযোগ হবে না? শিক্ষাসচিব মারফত যোগাযোগ হবে! এটা মোটেও যুক্তিপূর্ণ ব্যবস্থা নয়।' পাশাপাশি, শনিবার বিকেলের সাংবাদিক বৈঠকে এরাজ্যের শিক্ষার ডিএনএ নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে বলেও রাজ্যপাল অভিযোগ করেন। 

তিনি এসব কথা বললেও সূত্রের খবর, যাদবপুরের পড়ুয়ারা রাজ্যপালকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বয়কটের পথে হাঁটছে। তারা এই সমাবর্তন বয়কট করার জন্য পড়ুয়াদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তাও পাঠাচ্ছে। ছাত্রদের এই অবস্থানের কথা জেনেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও বলেছিলেন, পড়ুয়ারা রাজ্যপালকে না-চাইলে সরকারের কী করার রয়েছে! এই পরিস্থিতিতেও যে তিনি অবস্থান বদলে রাজি নন, রবিবার 'এক্তিয়ার' প্রয়োগ করে যেন সেটাই বুঝিয়ে দিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীপ ধনকড়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only