রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৯

সারা দেশে এনআরসি হবে না! হঠাৎ ঘোষণা মোদির




পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টরমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিক সভায় হুশিয়ারি দিয়েছিলেন, দেশজুড়ে এনআরসি করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের একটা একটা করে ধরে বিতাড়ন করা হবে দেশ থেকে। একটি সম্প্রদায়কে নিশানা করেই যে শাহ এই হুমকি দিয়েছিলেন তা সর্বজনবিদিত। অথচ, রবিবার খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রামলীলা ময়দানে তার ভাষণে যা বললেন, তা তো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। সমালোচকরা বলছেন, দেশজুড়ে যেভাবে সিএএ বিরোধী আন্দোলন জোরালো হচ্ছে তাতে বিপাকে পড়েই সুর নরম করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমনিতেই ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ভোটে বিজেপির ধাকীা খাওয়ার ছবি উঠে এসেছে সংবাদ মাধ্যমের সমীক্ষায়। এই পরিস্থিতিতে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে জনসভা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। মনে করা হচ্ছে, সবদিক বিবেচনা করেই সাবধানে ও সতর্ক হয়ে আগাগোড়া ব্যাট করলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এদিনের ভাষণের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল মুসলিমদের আশ্বস্ত করার বার্তী। প্রধানমন্ত্রীজানালেন, সিএএ নিয়ে ১৩০ কোটি ভারতীয়র চিন্তার কিছু নেই। কারও অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হবে না। এটা নাগরিকত্ব কাড়ার নয় নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন। মুসলিমদের এই আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বিরোধীরা অপপ্রচার করছে মুসলিমদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পোরা হবে। কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পোরা হবে না। বিরোধীরা নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। মানুষের আবেগকে এই আইনের বিরুদ্ধে চালিত করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এখন যে এনআরসি নিয়ে এত কথা হচ্ছে এতো কংপ্রেসেরই তৈরি। যখন এটা তৈরি হয়েছিল তখন কংগ্রেস ঘুমিয়ে ছিল কেন। বিজেপি শুধু এটা কার্যকরী করছে মাত্র। সারা দেশে এনআরসি হবে না বলেও এদিন আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, অসমে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এনআরসি হয়েছিল। দেশের আর কোথাও এনআরসি হচ্ছে না। সংসদে ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোথাও দেশজুড়ে এনআরসি করা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং প্রধানমন্ত্রী দাবি করলেন, মহাত্মা গান্ধির মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সিএএ করা হয়েছে। এরপরই মুসলিমদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কোথাও মুসলিমদের জন্য ডিটেনশন ক্যাম্প হচ্ছে না। দেশের ১৩০ কোটি বাসিন্দার জন্য এই সিএএ আইন নয়। এই সিএএ-র সঙ্গে এনআরসির কোনও সম্পর্ক নেই। কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি এনআরসি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভূল তথ্য দিচ্ছে। মিথ্যার বেসাতি করছে। ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সিএএ ও এনআরসির সঙ্গে ভারতীয় মুসলিমদের কোনও সম্পর্ক নেই। সিএএ কোনও ভারতীয় নাগরিককে সমস্যায় ফেলবে না। তিনি হিন্দু হোন বা মুসলিম।

এনআরসি নিয়েও লাগাতার গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই শুধু অসমেই এনআরসি হয়েছিল। বাকি সব রাজ্যে এনআরসি চালু করা নিয়ে কোনও আইন হয়নি। সংসদেও তা তোলা হয়নি। সংসদের দু'কক্ষে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। সংসদকে অবশ্যই সম্মান করা উচিত। কিন্তু কিছু বিরোধী দল বিলটিকে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করেছে। সিএএ নিয়ে কোনও কথা বিশ্বাস করার আগে এই আইন সম্পর্কে সবাই আগে ভালভাবে পড়াশোনা করুন। সিএএ নিয়ে বিরোধীরাধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যের যে অভিযোগ তুলেছে তাও খারিজ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কারও প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে না। স্বীকৃতিবিহীন কলোনি বিলে হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খরিস্টান সব ধর্মের মানুষ উপকৃত হবে। আমরা সবকা সাথ সবকা বিকাশে বিশ্বাস করি। সিএএ নিয়ে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ হচ্ছে তারও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে পছন্দ না হলে বিরোধিতা করুন। প্রধানমন্ত্রীর মুর্তি পৌড়ান। কিন্তু, সরকারের ও জনগণের সম্পত্তি নষ্ট করবেন না। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পালটা জবাব দিয়েছে কংগ্রেসও। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, কংগ্রেস কখনও হিংসাত্মক আন্দোলনকে সমর্থন করে না। ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য খারিজ করে কংগ্রেস দাবি করেছে, ডিটেনশন ক্যাম্প হচ্ছে কিনা সে সম্পর্কে খবর পাওয়া খুবই সহজ। সার্চ ইঞ্জিন গুগলে গিয়ে এই নিয়ে সার্চ করলেই সব তথ্য প্রকাশ হয়ে যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only