বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯

নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র বোগেনভিলে নিয়ে কিছু অজানা কথা


পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: বহু দিন ধরেই পাপুয়া নিউ গিনি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ চাইছিল বোগেনভিল দ্বীপ। সেজন্য স্বাধীনতার পক্ষে গণভোট হয়েছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই দ্বীপে।

বুধবার বোগেনভিলে গণভোট কমিশনের চেয়ারম্যান বার্টি আহারন নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করেন। সেখানে দেখা গিয়েছে, প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোটার স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, পাপুয়া নিউ গিনির মধ্যে থেকে স্বায়ত্তশাসন চলা নিয়ে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৩০,৪৩জন ভোটার।

গণভোটে রায় আর যাই হোক না কেন, স্বাধীনতা পেতে গেলেও এখনও কিছুদিন প্রতীক্ষা করতে হবে এই দ্বীপের বাসিন্দাদের। কারণ গণভোটের এই ফলাফল বিচার বিবেচনা করে স্বাধীনতার দাবি প্রস্তাবটিকে নিউ পাপুয়া গিনির সংসদে পাস হতে হবে। আর সেই প্রস্তাব পাস হওয়ার সম্ভাবণা ক্ষীণ।পাপুয়া নিউ গিনি সরকার বোগেনভিলেকে হাত ছাড়া করতে চায় না ।


দীর্ঘ দিন ধরে বোগেনভিলের বিদ্রোহীদের সঙ্গে পাপুয়া নিউ গিনির সেনা ও বিদেশী সেনার সংঘর্ষ চলেছে। দ্বীপের ২০ হাজার মানুষ এই সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন। ১৯৯৮ সালে এই সংঘাতের অবসানের পর ২০০১ সালে ওই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

বোগেনভিলের বুকা দ্বীপে ফলাফল ঘোষণার পর গণভোট কমিশনের চেয়ারম্যান বার্টি আহারন সব পক্ষকে নির্বাচনী ফলাফল মেনে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সেখানকার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই ভোট আপনার শান্তি, আপনার ইতিহাস এবং আপনার ভবিষ্যৎ। অস্ত্রের চেয়ে যে কলম শক্তিশালী সেটা এই ভোট দেখিয়েছে। গন্তব্যের উদ্দেশে চলা যাত্রার একটি অংশ এই গণভোট।গত ২৩ নভেম্বর বোগেনভিলের স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

বোগেইনভিলেতে সংঘাত শুরু হয় ১৯৮০ সালের শেষর দিকে। এই সময় দ্বীপের পানগুনা এলাকায় বিশালাকারের একটি তামার খনি ঘিরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এই খনি থেকে উত্তোলিত তামার বড় একটি অংশ রফতানি করে পাপুয়া নিউ গিনি। কিন্তু বোগেনেভিলের অনেকেই মনে করেন এই রফতানি আয়ের কোনো সুবিধাই তারা পান না। সুবিধা না পেলেও খনির উত্তোলন কাজ তাদের প্রথাগত সংস্কৃতি ও নাগরিক জীবন-যাপনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ওই সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে খনিটি। অনেকেই মনে করেন, এই খনি বোগেভিলের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস হতে পারে। যে কারণে তারা দ্বীপটির স্বাধীনতা চান।

উল্লেখ্য, এই দ্বীপটির জনসংখ্যা ৩ লক্ষ। দ্বীপটির বেশির ভাগে অংশ গ্রাম্য হলেও সেখানে প্রধানত তিনটি শহর রয়েছে।সেগুলি হল-বুকা, আরাওয়া এবং বুইন। প্রায় ২ লক্ষের বেশি বাসিন্দা সেখানে ভোটাধিকার প্রাপ্ত।সেখানের বেশির ভাগ মানুষ ক্যাথলিক।

দ্বীপটির জাতীয় ভাষা টোক পিসিন। অর্থাৎ পাপুয়া গিনির পিডজিন ইংরাজি।এই ইংরাজি ভাষা সাধারণ ব্রিটিশ ইংরাজি থেকে সামন্য আলাদা। কারণ এই ধরণের ইংরাজিতে প্রায় ১৯টি স্থানীয় ভাষার সংমিশ্রণ রয়েছে।

১৭৬৮ সালে ফরাসি নাবিক লুইস অ্যান্টোইন ডে বোগেনভেলি প্রথম এই দ্বীপটি আবিষ্কার করেছিলেন।দ্বীপটির পূর্ব উপকূলে তাঁর নৌকাটি এসে পৌঁছে ছিল। এই ফরাসি নাবিকের নামাঙ্কে এই দ্বীপটির নাম রাখা হয় বোগেনভেলি। উনিশ দশকে জার্মানি এই দ্বীপটিতে ঘাঁটি গড়ে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্বের সময় এই দ্বীপটিকে সেনা ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করত জাপান। তার পর অঞ্চলটি বহুদিন অস্ট্রেলিয়া সরকারের আওতাধীন থেকেছে। ১৯৭৫ সালে এটি পাপুয়া নিউ গিনির হাতে চলে যায়। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only