সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯

'শীতে আর অনাহারে কেউ মরবে না', পড়ুন ঝাড়খণ্ডের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সাক্ষাৎকার

পিতা-পুত্র: হেমন্ত সোরেন, শিবু সোরেন
প্রশ্নঃ এই মুহূর্তে আপনার সামনে চ্যালেঞ্জগুলি কি কি?

হেমন্তঃ একদিকে, মানুষের পাহাড় সমান প্রত্যাশা রয়েছে। অন্যদিকে, অব্যবস্থার বিশাল গিরিখাদ রয়েছে। আমাকে পর্বত ও খাদের মধ্য রাস্তা তৈরি করতে হবে।

প্রশ্নঃ আপনি কি মনে করেন ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ভোটের এই ফলে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব রয়েছে নাকি সবটাই স্থানীয়?

হেমন্তঃ মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাসের দাম্ভিকতায় রাজ্যের মানুষ অসন্তুষ্ট ছিল। তাছাড়া ঝাড়খণ্ডের সমস্যা দূর করতেও তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। আমি স্থানীয় ইস্যুগুলিকেই সামনে রেখে ভোটে লড়েছিলাম। 

প্রশ্নঃ এনআরসি ও সিএএ নিয়ে কী ভাবছেন?

হেমন্তঃ এই দুই ইস্যু নিয়ে দেশজুড়ে বহু ঘটনা ঘটে চলেছে। বহু মানুষের মৃত্যুও হয়েছে। এই দু’ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নথিপত্র আমার কাছে নেই। তা সত্ত্বেও কীভাবে আমরা এত মানুষের জীবন নিতে পারি? কত তরুণ ও পুলিশ খুন হবে? কত মহিলা বিধবা হবে? কত শিশু অনাথ হবে? সিএএ ও এনআরসি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নির্ভর করা উচিত এর ফলে কারও প্রাণ যেতে পারে কিনা তার উপর। 

প্রশ্নঃ রঘুবর দাস সরকারের বিরুদ্ধে আপনি লাগামছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। বিগত সরকারের বিরুদ্ধে আপনি কি বিচারবিভাগীয় তদন্ত বা পুলিশি তদন্ত করবেন?

হেমন্তঃ আমরা অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করব না কখনও। বিগত সরকারের জমানায় সত্যিই যদি অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকে তা খতিয়ে দেখা হবে। কেউ অন্যায় করে থাকলে শাস্তি পাবে।

প্রশ্নঃ বিগত সরকারের কী কী সিদ্ধান্ত পুনরায় খতিয়ে দেখবেন? 

হেমন্তঃ পিডিএস (পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম) বা জনবন্টন স্কিমে খাদ্যশস্য পেতে সমস্যা হচ্ছে রাজ্যের বাসিন্দাদের। সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েই বলছি, আর কাউকে প্রবল ঠান্ডা ও অনাহারে মরতে হবে না। স্কলারশিপ পেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের। ধর্মান্তরণ বিরোধী আইনও খতিয়ে দেখা হবে। মানুষের স্বার্থের কথা ভেবেই আমরা যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেব। 

প্রশ্নঃ নকশাল ও মাওবাদী সহ উগ্রপন্থীদের বাড়বাড়ন্ত সম্পর্কে কি বলবেন?

হেমন্তঃ কারা বিদ্রোহী বা উগ্রপন্থী? যারা চাকরি পাচ্ছে না– বেকারত্বে ভুগছে তারাই। কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে একজন কর্মহীন ব্যক্তির সামনে দু’টো রাস্তা খোলা থাকে। হয় তারা নিজেকে মেরে ফেলবে নয়তো অন্যদের খতম করবে। তৃতীয় কোনও রাস্তা নেই। হয় তারা অন্যের খাবার কেড়ে খাবে, নয়তো অনাহারে মরবে। মানুষ চাকরি পেলে আর বন্দুক হাতে তুলে নেবে না। 

প্রশ্নঃ এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আপনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। গতবারের থেকে এবার কি পার্থক্য থাকবে?

হেমন্তঃ আমি ঈশ্বর নই। একজন মানুষ। তাই ভুল হবেই। এবারও ভুল হতে পারে। কিন্তু, যখনই জানতে পারব কোনও ভুল হয়েছে সঙ্গেসঙ্গে তা শুধরে নেওয়ার কোনও চেষ্টাই হাতছাড়া করব না।শীতে আর অনাহারে কেউ মরবে না


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only