শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২০

বিশ্বক্রিকেটকে আলবিদা ইরফানের


২০০৩ সালের এক দুপুরে ভারতীয় ক্রিকেটকে চমকে দিয়েছিলেন বরোদার এক যুবক। অনুর্ধ্ব উনিশ ভারতীয় দলের হয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৬ রান দিয়ে ৯টি উইকেট তুলে নিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সারা ক্রিকেট বিশ্বকে। ঠিক তার পরের বছরই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে তাঁর বোলিং নজর কেড়েছিল আপামর ক্রিকেটপ্রেমী জনতার। 

২০০৪ সালের সেই সফরে সিডনিতে তৎকালীন অজি অধিনায়ক স্টিভ ওয় ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা অজি উইকেট কিপার অ্যাডাম গিলক্রিস্টের উইকেট তুলে নিয়ে লাইমলাইটে চলে এসেছিলেন পাঠান ভাইদের ছোট ইরফান পাঠান। সেই শুরু। তারপর থেকে ইরফানের ক্রিকেটিয় কেরিয়ার বদলেছে নানাভাবে। ভারতীয় ক্রিকেটের সেই বাঁ হাতি পেস বোলার ইরফান শনিবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করে দিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ভারতীয় দলে নেই। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরমেন্স থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের নির্বাচকরা তাঁর কথা ভাবছিলেনই না। ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সেটা আর হয়ে উঠছিল না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন এবার নিজের অবসরটা ঘোষণা করেই ফেলবেন। সেটাই করলেন।  ঘরোয়া ক্রিকেটে ফর্মে থাকা ৩৫ বছরের ইরফানকে নেওয়ার ক্ষেত্রে কুন্ঠাবোধ করেছে বিসিসিআই। তাই বেশ কিছুদিন যাবৎ ইরফান নতুন কর্মকাণ্ডে যুক্তও হয়েছেন। কাশ্মীরের ক্রিকেট টিমের প্লেয়ার কাম মেন্টর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন ইরফান পাঠান। ইসলামের প্রতি নিষ্ঠাবান ইরফান ও তাঁর বড় ভাই ইউসুফ পাঠানের স্কোরিং এবিলিটি কারও চোখ এড়ায় না। 

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান হিসেবেও দু’ভাইয়ের ছক্কা মারার প্রবণতা সবারই প্রায় জানা। ওয়ানডেতে একশো কুড়িটি ম্যাচে তাঁর ১৭৩ টি উইকেট রয়েছে। মাত্র ২৯টি টেস্ট খেলে তিনি একশোটি উইকেট নিয়েছেন। হরভজনের পর দ্বিতীয় কোনও ভারতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিকের নজির রয়েছে তাঁর। তারপরও তাঁকে একটা বড় সময় ভারতীয় ক্রিকেটে ব্রাত্যই রাখা হয়েছে।



  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only