রবিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২০

বাবুঘাটে জোরকদমে চলছে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি

সাহাজান পুরকাইত: কুম্ভমেলার পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম হিন্দু মেলা হল গঙ্গাসাগর। প্রতি বছর মর সংক্রান্তিতে সাগর দ্বীপের কপিল মুনির আশ্রমে অনুষ্ঠিত হয় এই ধর্মীয় উৎসব। দেশবিদেশের হাজার হাজার পূণ্যার্থী এই উৎসবে যো দিতে কলকাতাসহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় আগে থেকেই জমায়েত হতে থাকেন সাধুসন্ত থেকে পুণ্যার্থীরা। এবছরও বাবুঘাট-ধর্মতলা চত্ত্বরে সাধুসন্তদের পাশাপাশি পূণ্যার্থীদের আগমন শুরু হয়েছে। একই রকম ভাবে তাদের পরিষেবায় কোনও রকম খামতি না রাখতে কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য প্রশাসন। পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। রবিবার বাবুঘাট-ধর্মতলা চত্ত্বর ঘুরে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতির সেই তৎপরতা চোখে পড়ল।
আগামী ১০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলা। পূণ্যস্নান ১৫ জানুয়ারি বুধবার। মেলা চলবে ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত। তারআগে আগামী কাল ৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে বেশকিছু সাধুসন্তদের দল ইতিমধ্যে আউটট্রাম ঘাটে জড় হয়েছেন। কেউ কেউ অস্থায়ী আস্তানা নির্মাণের কাজ শেষ করে অনাবৃত অবস্থায় ছাইভস্ম মেখে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করছেন। তাঁদের পরিষেবা দিতে বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা বাঁশ-লোহা দিয়ে কাঠামোর কাজ শেষ করে কাপড়, ত্রিপলে ঢাকতে ব্যস্ত।
ব্যস্ত রাজ্য প্রশাসনও। সরকারি তরফে ইতিমধ্যে জনসাধারণের জন্য সহায়তা মঞ্চ, নজরদারি ক্যাম্পের কাঠামো নির্মাণ শেষ করে সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। কিছু জায়গায় পানীয় জলের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অস্থায়ী শৌচালয় নির্মাণ করা হয়েছে। আরও অস্থায়ী শৌচালয় ও পানীয় জলের ট্যাঙ্ক নির্মাণের কাজ চলছে। অন্যদিকে গত শুক্রবারের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে মাঠের কাদা এখনও শুকায়নি। সেই কাদা ঢাকতে গাড়ি গাড়ি বালি-মাঠি এনে কাদাজল চাপা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ইডিনের উল্টো দিকে স্ট্যান্ড রোডে ও মোহন বাগান ক্লাবের পাশের মাঠে পূণ্যার্থীদের আগামন হয়েছে। সেখানে পানীয় জলের ব্যবস্থা থেকে মহিলা-পুরুষ আলাদা অস্থায়ী শৌচালয় নির্মাণ ও ইটপেতে ফুল গাছ দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল ক্যাম্প নির্মাণের কাজ চলছে।

পূণ্যার্থী-সাধুসন্তদের পরিষেবায় প্রদানে দক্ষিণ ২৪ পরগণার প্রশাসনের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভাও বিশেষ ভুমিকা রাখছে। এবিষয়ে পুরসভার কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার জানান, রাস্তাঘাট থেকে গোটা চত্ত্বর পরিস্কার রাখতে নতুন করে ১০ টি মেকানিক্যাল সুইপার ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও, প্রতিবারের মতো বায়োটয়লেট, মুভেবল কম্পাক্টরসহ ২৪ ঘন্টাই সাফাই কর্মী নিয়োগ থাকছে। একই সঙ্গে বাজে কদমতলা ঘাট, দহিঘাট, গোয়ালিয়র ঘাটসহ কলকাতার একাধিক ঘাটে পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হবে। মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পূণ্যার্থী ও আগত মানুষদের পরিষেবা প্রদানে কোনও রকম খামতি থাকবে না। পরিবেশ রক্ষায় ২৪ ঘন্টা সাফাই কাজ চলার পাশাপাশি পরিবেশ দফতর থেকে নজরদারি চালানো হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only